শিশুগুলোর সামনে মানবঢাল, নিজের প্রাণ দিলেন তিনি—মৌমাছির হুলে শহিদ এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর নীরব বীরত্ব

মৌমাছির হুলে শহিদ এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর নীরব বীরত্ব! বিকেলটা শুরু হয়েছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই। মধ্যপ্রদেশের নিমুচ জেলার রণপুর গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাইরে খেলছিল ছোট ছোট বাচ্চারা—হাসি, দৌড়ঝাঁপে মুখর ছিল…

February 5, 2026
0 min read

মৌমাছির হুলে শহিদ এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর নীরব বীরত্ব!

বিকেলটা শুরু হয়েছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই। মধ্যপ্রদেশের নিমুচ জেলার রণপুর গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাইরে খেলছিল ছোট ছোট বাচ্চারা—হাসি, দৌড়ঝাঁপে মুখর ছিল চারপাশ। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবিটা বদলে যায় আতঙ্কে। হঠাৎ করেই কোথা থেকে যেন মৌমাছির এক বিশাল ঝাঁক ধেয়ে আসে। বোঝার আগেই পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ান ৪০ বছর বয়সি কাঞ্চন বাই মেঘওয়াল। কোনও দ্বিধা নয়, কোনও হিসেব নয়—শুধু একটাই ভাবনা, কী করে শিশুদের বাঁচানো যায়। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রাঁধুনি কাঞ্চন যেন সেই মুহূর্তে হয়ে ওঠেন এক মানবঢাল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কাঞ্চন একে একে প্রায় ২০টি শিশুকে ত্রিপল, মাদুরে মুড়িয়ে নিজের শরীর দিয়ে আড়াল করে কেন্দরের ভেতরে নিয়ে যান। আর সেই ফাঁকেই মৌমাছিরা ঝাঁকে ঝাঁকে এসে হুল ফোটাতে থাকে তাঁর শরীরে। তবুও থামেননি তিনি। যতক্ষণ না শেষ শিশুটিও নিরাপদে ভিতরে পৌঁছয়, ততক্ষণ নিজের প্রাণের তোয়াক্কা করেননি কাঞ্চন।

গ্রামবাসীরা খবর পেয়ে ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে মৌমাছির বিষে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যু হয় কাঞ্চনের। শিশুদের বাঁচিয়ে তিনি নিজে আর ফিরলেন না।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা গ্রামে। কাঞ্চন ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। স্বামী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত, সংসারে রয়েছে তিনটি সন্তান। মাসে মাত্র ৪,২৫০ টাকা বেতনে অঙ্গনওয়াড়ি রাঁধুনির কাজ করেই চলত তাঁদের জীবন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

কাঞ্চনের এই আত্মত্যাগ এখন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ তাঁর সাহস ও মানবিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। কেউ কেউ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবকে ট্যাগ করে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। নেটদুনিয়ায় উঠেছে ক্রাউডফান্ডিংয়ের কথাও—কাঞ্চনের স্বামী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এগিয়ে আসতে চাইছেন অনেকেই।

এই ঘটনা শুধু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার গল্প নয়। এটি এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর নিঃশব্দ বীরত্বের দলিল—যাঁরা সামান্য বেতনে, সীমিত সুযোগে দিনের পর দিন শিশুদের আগলে রাখেন। কাঞ্চন বাই মেঘওয়াল দেখিয়ে গেলেন, মা হওয়া শুধু নিজের সন্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কখনও কখনও গোটা সমাজের সন্তানের জন্যই একজন মা নিজের প্রাণ উজাড় করে দেন।

শিশুগুলো আজ বেঁচে আছে। আর তাদের সেই জীবন বাঁচানোর গল্পের সঙ্গে চিরদিন জড়িয়ে থাকবে কাঞ্চনের নাম—এক সাহসী নারী, এক নীরব নায়িকা।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *