উত্তরবঙ্গে মমতার উদার ঘোষণা !
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ফের নজর উত্তরবঙ্গের দিকে। একসময় যেখানে রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস, সেখানেই এবার উন্নয়নের ছোঁয়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে উত্তরবঙ্গের শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ আলোচনার পর একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং আরও নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।
উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০২১ সালে ৩০টি দখল করেছিল বিজেপি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পালটে গেছে চিত্র। উপনির্বাচনে একাধিক জয় পেয়ে এখন এই অঞ্চলে তৃণমূলের বিধায়কের সংখ্যা বিজেপির চেয়ে বেশি। মমতা জানেন, রাজনৈতিক সমর্থন পেতে গেলে উন্নয়নই মূল চাবিকাঠি। সেই কারণেই উত্তরবঙ্গে পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে তাঁর এই সফরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জল্পেশ মন্দির স্কাইওয়াক, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে চারটি নতুন শিল্প উদ্যান এবং শিলিগুড়ির ওয়েবেল আইটি পার্কে তৈরি হওয়া তথ্যপ্রযুক্তি ক্লাস্টার। আগামী দিনে কোচবিহারে নতুন শিল্প উদ্যান, শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টার ও হোটেল তৈরিরও ঘোষণা দেন তিনি। উত্তরায়নের উল্টোদিকে ১০ একর জমি ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বাগডোগরা বিমানবন্দরের উল্টো দিকের জমিতে হোটেল তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শুধু ঘোষণা নয়, ব্যবসায়ীদের বাস্তব সমস্যার কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারে অতিরিক্ত ট্রেড লাইসেন্স ফি এবং মিউটেশন খরচ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে মমতা স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহি চান এবং অতিরিক্ত মাশুল কমানোর নির্দেশ দেন। বলেন, “আমি কর বাড়ানোর বিরুদ্ধে। কর যদি মকুব করা যায়, সেটাই ভালো।”
চা শিল্প নিয়েও আশাবাদী মমতা। দার্জিলিং চায়ের মান বজায় রাখতে বিদেশি ভেজাল চায়ের উপরে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলেন তিনি। এই চা পরীক্ষার জন্য রাজ্য সরকার ল্যাবও গড়ছে। চা বাগান মালিকদের নিয়ে দ্রুত বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মালদহের ব্যবসায়ীদের অনুরোধে মাখনার উপর কৃষি বিপণন কর তুলে নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।
উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের আট জেলার প্রশাসনিক বৈঠক এবং বৃহস্পতিবার তিনি কলকাতায় ফিরবেন।
এই সফরের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট, উন্নয়নের হাত ধরেই উত্তরবঙ্গের ‘নীলবাড়ি’র লড়াইয়ে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপের সমন্বয়ে এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী—উন্নয়নই একমাত্র রাস্তা, আর সেই রাস্তাই পৌঁছে দেবে ভোটের বৈতরণি পেরোনোর ঠিকানায়।
“শাহরুখ আসলে খুবই মধ্যবিত্ত মানুষ” — বলিউডের বাদশাহর এমন গুণ দেখে মুগ্ধ পরিচালক অনুভব সিন্হা