শিরোনাম: অপমান থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন—‘সরপঞ্চ’ শ্রেয়সের আইপিএল জয়ের লড়াই

‘সরপঞ্চ’ শ্রেয়সের আইপিএল জয়ের লড়াই! দু’বছর আগের ব্যর্থতা, বিতাড়ন, সমালোচনার বোঝা—সব পেরিয়ে শ্রেয়স আয়ার আজ পঞ্জাব কিংসের সাফল্যের মূল স্তম্ভ। কেকেআরকে ট্রফি এনে দেওয়ার পরও যখন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হল,…

June 3, 2025
0 min read

‘সরপঞ্চ’ শ্রেয়সের আইপিএল জয়ের লড়াই!

দু’বছর আগের ব্যর্থতা, বিতাড়ন, সমালোচনার বোঝা—সব পেরিয়ে শ্রেয়স আয়ার আজ পঞ্জাব কিংসের সাফল্যের মূল স্তম্ভ। কেকেআরকে ট্রফি এনে দেওয়ার পরও যখন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হল, তখনই হয়তো শুরু হয়েছিল তাঁর মানসিক পুনর্গঠনের পথচলা। সেই অপমানের জবাব দিলেন মাঠে ব্যাট হাতে, ঠান্ডা মাথায়, নেতার মতো।

শুধু দলের অধিনায়ক নন, পঞ্জাবের সমাজমাধ্যমে এখন তিনি ‘সরপঞ্চ’। প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার দেওয়া নাম এখন মাঠে, গ্যালারিতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো স্লোগান। ফাইনালে ওঠার রাতে যখন তিনি টানা চারটি ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করেন, তখন তাঁর মুখে আবেগের কোনও ছাপ নেই—শুধু দায়িত্বের গাম্ভীর্য।

শ্রেয়সের নেতৃত্বে পঞ্জাব গড়ে তুলেছে এক দল তরুণ সৈনিক, যাঁদের অনেকেরই দেশের হয়ে এখনও অভিষেক হয়নি। প্রিয়াংশ আর্য, প্রভসিমরন সিংহ, নেহাল ওয়াধেরা, শশাঙ্ক সিংহ, বিজয়কুমার বিশাখ ও হরপ্রীত ব্রার—তাঁদের মধ্যে কোনও সুপারস্টার না থাকলেও মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। মিডল অর্ডারে ওয়াধেরার দৃঢ়তা বা শশাঙ্কের ফিনিশিং ক্ষমতা বারবার ম্যাচ ঘুরিয়েছে। বিশাখের ঠান্ডা মাথায় বল করা, বিশেষ করে রবিবারের নাক্‌ল বলগুলো, ছিল চমকপ্রদ।

এই তরুণদের এমন আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন শ্রেয়স। অধিনায়ক হিসেবে কেমন তিনি? শশাঙ্ক বলেন, “ও আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে দেয়। স্বাধীনতা দেয়, সাহস জোগায়। এমনকি দলের সব কর্মীদের সঙ্গেও সমানভাবে ব্যবহার করে। এমন অধিনায়ক খুব কমই দেখা যায়।”

শ্রেয়সের এই মানসিকতা রাতারাতি তৈরি হয়নি। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যর্থতার যন্ত্রণা, কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়া, কেকেআর থেকে বাদ পড়া—সব মিলিয়ে কঠিন সময় গেছে তাঁর। সেই চাপকে জ্বালানি বানিয়ে নতুন করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। ব্যাটেই দিয়েছেন জবাব।

আইপিএলের ইতিহাসে তিনটি ভিন্ন দলকে ফাইনালে তোলার নজির গড়েছেন শ্রেয়স। তবে এই বারটা বিশেষ। কারণ এবার তিনি জিতেছেন একজন নির্মাতা হিসেবে—তারকাবর্জিত এক দলকে নিয়েই।

এখনও ফাইনাল বাকি। শ্রেয়স নিজেও জানেন কাজ শেষ হয়নি। কিন্তু একথা নিশ্চিত—এই শ্রেয়সকে ভাঙা যাবে না। তাঁর ব্যাটে যে শুধু রানই আসে না, আসে প্রত্যাঘাতের উত্তর।

এই যাত্রা যদি শেষ হয় ট্রফি হাতে, তবে কেবল ‘সরপঞ্চ’ নয়—পঞ্জাবের কিংবদন্তি হিসেবেই লেখা থাকবে শ্রেয়স আয়ারের নাম।

সারা দিন “স্নান করে বেরোলাম” লুক—কীভাবে পাবেন তরতাজা ও সতেজ চুলের জাদু?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *