শিবু সোরেনের পুত্রবধূ সীতা সোরেনের উপর প্রাণঘাতী হামলা!
ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) প্রধান শিবু সোরেনের পুত্রবধূ তথা বিজেপি নেত্রী সীতা সোরেনের উপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌভাগ্যবশত, তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হামলাটি রুখে দেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিপদ
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, যখন সীতা সোরেন ধানবাদের কতরাস এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেই উপলক্ষে তিনি একটি হোটেলে উঠেছিলেন। কিন্তু সেখানেই ঘটে অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক দেবাশিস ঘোষ হঠাৎ করেই অস্ত্র হাতে তাঁর ঘরে প্রবেশ করে হামলার চেষ্টা করেন।
সতর্ক নিরাপত্তার কারণে রক্ষা পেলেন নেত্রী
নেত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দেবাশিসের আচরণে সন্দেহ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তাঁরা সময় নষ্ট না করে দেবাশিসকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
আদালতে পেশ, তদন্তে পুলিশ
শুক্রবার ধৃত দেবাশিস ঘোষকে ধানবাদ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তবে এই হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পুলিশ এই ঘটনাটির পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দেবাশিস আগেভাগেই ওই হোটেলে উপস্থিত ছিলেন এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
হামলার কারণ রহস্যজনক
কেন দেবাশিস এই হামলার চেষ্টা করলেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সীতা সোরেন বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হওয়ায় রাজনৈতিক কারণে এই হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
সীতা সোরেন কে?
সীতা সোরেন ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে সুপরিচিত মুখ। তিনি শুধু শিবু সোরেনের পুত্রবধূ নন, ঝাড়খণ্ড রাজনীতিতে নিজেও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বিজেপির নেত্রী হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।
নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি
এই ঘটনার পর বিজেপির নেতারা এবং সীতা সোরেনের সমর্থকরা তাঁর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। এমনকি দলীয় স্তরেও এই হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। তাঁরা প্রশাসনের কাছে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।
শেষ কথা
ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে এই হামলার ঘটনা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। পুলিশ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এটি স্পষ্ট যে নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতাতেই বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। সীতা সোরেন বর্তমানে সুস্থ আছেন, কিন্তু এই হামলা তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প! ঘোষণা করলেন নির্দিষ্ট তারিখও