শাহের বিতর্কিত বিল ঘিরে লোকসভায় উত্তেজনা!
বাদল অধিবেশনের শেষের দিকেই সংসদে হঠাৎই চাঞ্চল্য ছড়াল। বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধে টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁকে মন্ত্রিত্ব হারাতে হবে।
এই প্রস্তাব সামনে আসতেই বিরোধীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন— এই আইন কার্যকর হলে বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলিতে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে কোণঠাসা করা সহজ হয়ে যাবে। তাঁদের আশঙ্কা, তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের সরিয়ে দেওয়ার পথ খুলে দিচ্ছে এই বিল।
লোকসভায় উত্তেজনা দ্রুত তুঙ্গে ওঠে। বিরোধী সাংসদেরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অনেকেই বিলের কপি ছিঁড়ে ফেলেন, দলা পাকিয়ে শাহের দিকে ছুড়েও দেন। নিরাপত্তা ঘেরাওয়ের মধ্যে শাহকে চতুর্থ সারি থেকে বিল পেশ করতে হয়। তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, অন্তত ২০ জন মার্শালকে মোতায়েন করতে হয়েছিল শাহকে ঘিরে রাখতে।
বিতর্কিত বিলটি যদিও বুধবার লোকসভায় পাশ হয়নি। প্রবল বিরোধিতার আবহে শেষ পর্যন্ত তা যৌথ সংসদীয় কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শাহ জানান, কমিটিতে শাসক-বিরোধী দুই পক্ষেরই প্রতিনিধিত্ব থাকবে। তবুও বিরোধীরা আশঙ্কা তুলেছেন, এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় অযথা হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর অভিযোগ, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নামে আসলে বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের ফাঁসানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হলেও টানা ৩০ দিনের হেফাজতের পর মন্ত্রিত্ব হারাতে হবে— এটা গণতন্ত্রের পক্ষে ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক।”
লোকসভায় হট্টগোলের আবহে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করিয়ে নেয় কেন্দ্র। ‘দ্য প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’-এ আর্থিক লেনদেন যুক্ত সব ধরনের অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এমনকি প্রচারের উপরেও কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ফ্যান্টাসি স্পোর্টস গেমিং সংস্থাগুলির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এদিকে, শাহ একই দিনে আরও দুটি বিল পেশ করেন— কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকার (সংশোধনী) বিল এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল। সেগুলির বিরোধিতাও হয়, যদিও প্রধান বিতর্ক ঘিরে ছিল ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলকে কেন্দ্র করেই।
লোকসভা ও রাজ্যসভা— দুই কক্ষেই দিনভর অশান্তি অব্যাহত থাকে। বিরোধীরা দাবি তুলেছেন, গণতন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে রক্ষা করতে হলে এই বিল প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, দুর্নীতি দমন করতেই এই পদক্ষেপ।
শেষ পর্যন্ত বিল কমিটির হাতে গেলেও, তার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। কিন্তু তাতে একথা স্পষ্ট— এই প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা আগামী দিনেও বহাল থাকবে।