শালবনি জমি মামলায় আরও গ্রেফতার!
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নাম। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের গ্রেফতারের পর এ বার গ্রেফতার করা হল মেদিনীপুরের বাসিন্দা অমিত ঘোষকে। তিনি প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। একই মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আরও দুই অভিযুক্ত।
সোমবার সকালে মেদিনীপুরে পৌঁছয় সিআইডির একটি দল। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় সৈয়দপুরের বাসিন্দা অমিতকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী আধিকারিকেরা। পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, সিআইডির অনুরোধের ভিত্তিতেই অমিতকে গ্রেফতার করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শালবনির বাসিন্দা শেখ ইমরানের করা অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরে অমিতের নাম রয়েছে ছয় নম্বরে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ৫০ একরেরও বেশি সরকারি জমির জাল নথি তৈরি করে তা বিক্রি করার একটি চক্র সক্রিয় ছিল। অমিত সেই চক্রের অন্যতম সদস্য বলে অভিযোগ। সিআইডির সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় সুমিতের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অমিতের কাছে থাকতে পারে।
গত ২ সেপ্টেম্বর এই মামলায় চার্জশিট পেশ করেছে সিআইডি। সেখানে প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার নাম থাকলেও অভিযুক্ত হিসাবে সুমিতের নাম ছিল না। চার্জশিটে ২০ জন সাক্ষীর বয়ানের উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অভিষেকের দুই প্রাক্তন দেহরক্ষী এবং দুই গাড়িচালকও রয়েছেন।
সিআইডির দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে যে বিতর্কিত জমি আসলে সরকারি সম্পত্তি ছিল এবং উদ্বাস্তুদের চাষাবাদের জন্য তা বরাদ্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ, সুজয়, অনিতেশ পাইরা ও তাঁদের সহযোগীরা ওই জমি দখল করেন। চার্জশিটে সুমিত ও সুজয়ের নির্দেশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সুমিতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে প্রায় সাত কোটি টাকা জমা পড়েছিল। সেই টাকার উৎস নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে সিআইডির দাবি।
এ দিকে, সুমিত গ্রেফতার হওয়ার পর কৈলাস অগ্রবাল ও সরফুদ্দিন খান নামে আরও দুই অভিযুক্ত আগাম জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা সুমিত ও সুজয়ের নির্দেশে জমির চরিত্র বদলের কাজে যুক্ত ছিলেন।
হাই কোর্টে সিআইডির দাবি, সরকারি জমিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করার একটি বড় চক্রের হদিস মিলেছে। প্রায় ৩০০ একর জমির চরিত্র বদলের অভিযোগও তদন্তে এসেছে বলে জানিয়েছে রাজ্য। তদন্তকারীদের বক্তব্য, পুরো চক্রের কার্যকলাপ সামনে আনতে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অন্য দিকে, আবেদনকারীদের আইনজীবীর দাবি, সুমিত গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানি শুক্রবার। তার আগে চার্জশিটের তথ্য আবেদনকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।