শহরের মৌমাছিদের নিয়ে নয়া তথ্য গবেষণায়

মৌমাছিদের নিয়ে নয়া তথ্য কলকাতা শহরের মৌমাছিদের মৃত্যুর হার এবং তাদের কার্যকলাপ নিয়ে নতুন গবেষণায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিতত্ত্ব বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে, শহরতলির তুলনায় শহরে…

October 29, 2024
1 min read

মৌমাছিদের নিয়ে নয়া তথ্য

কলকাতা শহরের মৌমাছিদের মৃত্যুর হার এবং তাদের কার্যকলাপ নিয়ে নতুন গবেষণায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিতত্ত্ব বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে, শহরতলির তুলনায় শহরে মৌমাছিদের বিভিন্ন প্রজাতির কার্যগত বৈচিত্র বেশি। কিন্তু শহরতলির মৌমাছিদের মৃত্যুর হার significantly বেশি, যা কীটনাশক এবং সালফার ডাই অক্সাইডের মতো দূষণের প্রভাবে ঘটছে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষক পার্থিব বসু এবং অন্যান্য গবেষক অদিতি দত্ত ও ইন্দ্রনীল সমাজপতি তাদের গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ‘আরবান ইকো সিস্টেম’ জার্নালে প্রকাশ করেছেন। তাঁরা কলকাতা এবং শহরতলির মোট ২০টি অঞ্চলের পার্ক ও বাগানের মৌমাছিদের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণার জন্য শহরের মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছে ইডেন গার্ডেন্স, যোধপুর পার্ক, বৈষ্ণবঘাটা, ব্যারাকপুর, বেহালা, এবং হাওড়ার দাশনগর। শহরতলির মধ্যে ছিল আমতা, বাগনান, বারাসত, দমদম পার্ক, ইকো পার্ক এবং সাঁকরাইল।

গবেষণায় দেখা গেছে, শহরে মৌমাছির বিভিন্ন প্রজাতির কার্যগত বৈচিত্র অনেক বেশি। মৌমাছিরা একাধিক ফুলে পরাগমিলনের কাজ করে এবং এই কাজে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শহরের মৌমাছিরা বড় এবং ছোট দুই ধরনের ফুলের সাথেও কাজ করে। কিন্তু শহরতলির মৌমাছিদের মধ্যে কার্যগত বৈচিত্রের অভাব দেখা গেছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ৪-৫টি প্রজাতি দলবদ্ধভাবে থাকে এবং মৌচাক তৈরি করে। ভারতের প্রায় ৮০০ প্রজাতির মধ্যে ৩-৪টি প্রজাতি দলবদ্ধভাবে বসবাস করে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শহরতলির মৌমাছিদের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে কীটনাশক। পাশাপাশি, এই অঞ্চলে সালফার ডাই অক্সাইডের উপস্থিতিও মৌমাছিদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদিও শহরের বায়ুদূষণ অনেক বেশি, তবুও মৌমাছিরা সেখানে তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গবেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শহরে যেসব গাছে পরাগমিলনের মাধ্যমে শাকসবজি ও ফুল হয়, সেই সব গাছের রোপণের প্রতি আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তারা স্বল্প পরিসরে ‘কিচেন গার্ডেন’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মৌমাছিদের জন্য নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

এই গবেষণার ফলাফল শহরের বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ, কারণ মৌমাছির মতো গুরুত্বপূর্ণ পতঙ্গ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মৌমাছিরা শুধুমাত্র ফুলের পরাগমিলনের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে না, বরং আমাদের জীবনের নানা দিকেও তারা সাহায্য করে। সুতরাং, মৌমাছিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *