শপথের দ্বারপ্রান্তে তারেক!
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশক পর আবার কোনও বিএনপি নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর শপথের আগে গুরুত্বপূর্ণ সাংসদীয় সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনি। দুটি আসনে জয়ী হলেও নিয়ম মেনে তিনি বগুড়া–৬ আসনের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং ঢাকার আসনটিই নিজের কাছে রেখেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ কারণে বগুড়া–৬ আসনে উপনির্বাচন হবে।
🗳️ ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন
এই শপথ শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগে শেষবার বিএনপি থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তাঁর মা খালেদা জিয়া— ২০০১ সালের অক্টোবরে। প্রায় ২৫ বছর পর আবার একই পরিবারের হাতে দেশের শাসনভার ফিরে আসছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২। আরও দু’টি স্থগিত আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
🎖️ শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতি
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস-এর তত্ত্বাবধানে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রায় ১২০০ দেশি–বিদেশি অতিথি সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন। ভারতের তরফে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র।
নতুন মন্ত্রিসভায় ৩৫–৩৭ জন সদস্য থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই পূর্ণমন্ত্রী এবং বাকিরা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন।
🏠 দায়িত্ব নেওয়ার পর কোথায় থাকবেন তারেক?
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর বাসস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়িতে থাকছেন— দেশে ফেরার পর থেকেই সেখানেই রয়েছেন।
সূত্রের খবর, আপাতত আরও কিছুদিন তিনি ওই বাড়িতেই থাকতে পারেন। পরে তাঁর সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’।
এদিকে নতুন সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ঢাকার ‘মন্ত্রিপাড়া’ হিসেবে পরিচিত বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় ৩৬টি বাংলোবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে।
🏛️ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর পূর্বসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের সময় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল।
✨ শেষ কথা
দীর্ঘ প্রবাসজীবন ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু ক্ষমতা বদলের ঘটনা নয়— এটি বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ক্ষমতার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি দেশের সামনে কী নতুন দিশা তুলে ধরতে পারেন।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই