শতবর্ষী চিকিৎসক মণিক ছেত্রী প্রয়াত!
ভারতের চিকিৎসা জগতে এক প্রজন্মের অনন্য অবদান রেখে গেছেন প্রবীণ চিকিৎসক মণিকুমার ছেত্রী। রবিবার বাড়িতেই ১০৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হলেও, চিকিৎসকমহল ও সাধারণ মানুষ আজও স্মরণ করবেন তাঁর মেধা, মানবিকতা এবং ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞাকে।
মণিকুমার ছেত্রী ১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিঙে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস, এমডি এবং পরবর্তীতে এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই মেডিসিনে তাঁর আগ্রহ এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতি তাঁকে বিশেষভাবে আলাদা করেছিল।
চিকিৎসা ও জনসেবার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল যাত্রা
ছেত্রী শুধুমাত্র একজন দক্ষ চিকিৎসক ছিলেন না; তিনি ছিলেন প্রখ্যাত নেতা ও রাজনীতিবিদের বিশ্বস্ত স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা। প্রয়াত নেতা জ্যোতি বসুর চিকিৎসা দায়িত্বও সামলেছেন। এছাড়াও, রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি এবং এসএসকেএম হাসপাতালে সার্জেন-সুপারিনটেনডেন্ট হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আইপিজিএমইআরে কার্ডিওলজি ও মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর-ডিরেক্টরের ভূমিকায় থেকেও তিনি মেডিসিন শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পরে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হয়ে চিকিৎসা পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ১৯৭৪ সালে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত হন।
উপকৃত অসংখ্য মানুষ
মণিক ছেত্রী শুধু চিকিৎসা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে নয়, মানবিক সহানুভূতিতেও ছিলেন অনন্য। তাঁর ক্লিনিক্যাল প্রজ্ঞা ও আন্তরিকতা বহু রোগী এবং পরিবারের জীবনে আশার আলো বয়ে এনেছে। তাঁর হাতেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাসপাতাল এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। অগণিত মানুষ তাঁর চিকিৎসা থেকে উপকৃত হয়েছেন।
শেষ সময় এবং শোক প্রকাশ
শেষ জীবনটিতে তিনি শান্তিতে ছিলেন। বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করায় পরিবার ও পরিচিতদের শোকগম্ভীর মুহূর্ত ছিল। মণিকুমারের মৃত্যুতে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম শোক প্রকাশ করেছে। সোমবার তাঁদের পক্ষ থেকে প্রয়াত চিকিৎসককে শ্রদ্ধা জানানো হবে।
একটি ছোট ঘটনা যদিও জীবনের উজ্জ্বল কীর্তির ছায়া কিছুটা কলঙ্কিত করেছে—আমরি হাসপাতালে আগুনের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তবে আদালত পরে তাঁকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।
মণিক ছেত্রী ছিলেন সেই মানুষ, যিনি জীবনের দীর্ঘ পথ জুড়ে মেডিসিন এবং মানবতার মেলবন্ধন গড়ে তুলেছিলেন। ১০৬ বছরের জীবনে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ চিকিৎসা জগতে এক ইতিহাস হয়ে থাকবে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না