শততম গোলের ঐতিহাসিক রাতেও চোখ ভিজল রোনাল্ডোর!
ফুটবল দুনিয়ার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসাবে চারটি ক্লাবের হয়ে ১০০ গোল করার অনন্য কৃতিত্ব গড়লেন তিনি। কিন্তু সেই রেকর্ড গড়ার আনন্দের বদলে মাঠ ছেড়ে বেরোলেন অশ্রুসজল চোখে। কারণ, আবারও ট্রফি হাতছাড়া হল তাঁর আল নাসেরের।
শনিবার হংকং স্টেডিয়ামে সৌদি সুপার কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আল নাসের এবং আল আহলি। ম্যাচ নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ২-২ সমতায় শেষ হয়। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে, আর সেখানে হেরে যায় রোনাল্ডোর আল নাসের। হতাশ রোনাল্ডোকে শেষ মুহূর্তে প্রার্থনা করতে দেখা গেলেও ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি। এ নিয়ে তিনটি ফাইনালে হার মানতে হলো তাঁকে আল নাসেরের জার্সিতে।
তবুও ম্যাচে ইতিহাস রচনা করেন রোনাল্ডো। আল নাসেরের হয়ে এ দিন তাঁর শততম গোল পূর্ণ হয়। এর ফলে তিনি বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হয়ে উঠলেন, যিনি চারটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তাঁর গোল সংখ্যা ৪৫০, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ১৪৫, জুভেন্টাসের হয়ে ১০১ এবং আল নাসেরের হয়ে পূর্ণ হলো ১০০ গোল। দেশের জার্সিতে করেছেন ১৩৮ গোল। এই নজিরে তিনি ছাপিয়ে গেলেন ইসিদ্রো লাঙ্গারা, রোমারিয়ো ও নেইমারকে, যারা তিনটি ক্লাবের হয়ে ১০০ গোল করেছিলেন।
ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে আল নাসের। প্রথমার্ধেই গোলের সুযোগ তৈরি করেন রোনাল্ডো। তাঁর এক দুরন্ত হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। কিছুক্ষণ পর আল নাসের পায় পেনাল্টি, কারণ প্রতিপক্ষের আলি মাজরাশির হাতে বল লাগে বক্সে। সেখান থেকেই গোল করে রেকর্ড গড়েন রোনাল্ডো। তবে বেশিক্ষণ এগিয়ে থাকতে পারেনি আল নাসের। আল আহলির ফ্রাঙ্ক কেসি দ্রুত সমতা ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধেও উত্তেজনা বজায় থাকে। কেসির ভুলে গোল করেন মার্সেলো ব্রোজোভিচ, আল নাসের ফের এগিয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রজার ইবানেজের গোলে আবার সমতায় ফেরে আল আহলি। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। রোনাল্ডো সেখানেও শট নেন এবং সফল হন। কিন্তু সতীর্থদের বারবার সুযোগ নষ্টের ফলে ট্রফি ধরা দিল না আল নাসেরের হাতে।
রেকর্ডের রাতে ট্রফি না পাওয়ার কষ্টই বেশি তাড়া করে বেড়াল রোনাল্ডোকে। মাঠ ছেড়ে বেরোনোর সময় অশ্রু আর হতাশা তাঁর মুখে স্পষ্ট। একদিকে ইতিহাস, অন্যদিকে হারের বেদনা—দুটোই যেন একসঙ্গে লিখল রোনাল্ডোর জীবনের আরেকটি নাটকীয় অধ্যায়।
আপনি চাইলে আমি এই লেখাটিকে আরও আবেগঘন করে তুলতে পারি, যেখানে রোনাল্ডোর ব্যক্তিগত যন্ত্রণা ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়ার দিকটা আরও ফুটিয়ে তোলা হবে। চাইবেন কি আমি সেইভাবে সাজিয়ে দিই?
ট্রোলের জবাবে মৌনী রায়: ‘‘ভালবাসা শিখুন, নয়তো জীবন ব্যর্থ’’