‘লেডি সিংহম’ সাকিনা: সাহসিকতায় রুখে দাঁড়ালেন, শিশু ধর্ষণের অভিযুক্তকে এনকাউন্টারে ধরলেন এই নির্ভীক মা

‘লেডি সিংহম’ সাকিনা! লখনউয়ের পুলিশমহলে এখন একটাই নাম—সাব-ইনস্পেক্টর সাকিনা খান। কেউ তাঁকে ডাকছেন ‘লেডি সিংহম’, কেউ বলছেন নির্ভীক মায়ের প্রতিচ্ছবি। কারণ, শিশুধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধের এক অভিযুক্তকে সাহসিকতার সঙ্গে এনকাউন্টারে…

June 1, 2025
1 min read

‘লেডি সিংহম’ সাকিনা!

লখনউয়ের পুলিশমহলে এখন একটাই নাম—সাব-ইনস্পেক্টর সাকিনা খান। কেউ তাঁকে ডাকছেন ‘লেডি সিংহম’, কেউ বলছেন নির্ভীক মায়ের প্রতিচ্ছবি। কারণ, শিশুধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধের এক অভিযুক্তকে সাহসিকতার সঙ্গে এনকাউন্টারে ধরার পর তিনি হয়ে উঠেছেন সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ঘটনা লখনউয়ের মদেয়গঞ্জ এলাকার। গত ২৮ মে এক শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাকিনাকে। তদন্তে নামার পর খবর আসে—অভিযুক্ত এক নির্জন এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে। আর দেরি করেননি সাকিনা। ছোটেন নিজে, সঙ্গে টিম।

অভিযুক্তকে যখন ঘিরে ফেলা হয়, তখনই শুরু হয় উত্তেজনার নতুন পর্ব। বাঁচার মরিয়া চেষ্টায় পুলিশের দিকে গুলি চালাতে শুরু করে অভিযুক্ত। কিন্তু পিছিয়ে যাননি সাকিনা। পাল্টা জবাব দেন নিজের টিম নিয়ে। গুলি লাগে অভিযুক্তের পায়ে। আটক করা হয় তাঁকে।


“আমি দু’সন্তানের মা, ভয় পাইনি” — সাকিনার গলায় সাহসের সুর

‘ওয়ান ইন্ডিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিনা বলেন,

“অভিযুক্ত সামনে থেকেই গুলি চালাচ্ছিল। আমি ভয় পাইনি, কারণ আমি একজন মা। আর একটা শিশু যখন এমন পাশবিকতার শিকার হয়, তখন দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়, মায়েরও। সেটাই আমাকে সাহস দিয়েছে।”

তিনি জানান, অভিযুক্তের পালানোর চেষ্টা থামাতে তাঁকেই গুলি চালাতে হয়। তাঁর মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হলে দৃঢ়তা এবং সঠিক সময়ে সাহসিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি।


পুলিশ পরিবারের সদস্য, জীবনের গল্পেও বীরত্ব

৩৯ বছর বয়সি সাকিনা বলরামপুর জেলার উতরৌলার বাসিন্দা। পুলিশের কাজ যেন তাঁর রক্তে মিশে আছে। বাবা, শ্বশুর ও ভাসুর—তিন জনই পুলিশে কর্মরত ছিলেন। ২০১১ সালে দুর্ঘটনায় স্বামী বাবর আখতার খানকে হারান, যিনি নিজেও ছিলেন এক জন পুলিশ অফিসার।

২০১৯ সালে তিনি নিজেই যোগ দেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশে। বর্তমানে মদেয়গঞ্জ থানায় কর্মরত। তাঁর দুই কন্যা কলেজে পড়ে। একদিকে মা হিসেবে দায়িত্ব, অন্যদিকে সমাজের অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো—এই দুই ভূমিকাতেই নিজেকে নিখুঁতভাবে মানিয়ে নিয়েছেন সাকিনা।


শুধু সাহস নয়, সহানুভূতিও

সাকিনার দায়িত্ব শুধু অভিযুক্তকে ধরা নয়। তিনি নির্যাতিতা শিশুর কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থাও করেছেন। পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, এই দায়িত্ব তিনি মানবিকতার সঙ্গে পালন করছেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত সাহসী, কঠোর কিন্তু হৃদয়বান অফিসার হিসেবে।

শিশু নির্যাতনের মতো ভয়ানক অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একা হাতে নেতৃত্ব দেওয়া, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা—এসবই দেখিয়ে দিয়েছে, পুলিশ বিভাগে নারীর শক্তি কতটা কার্যকরী এবং অপরিহার্য।

সাব-ইনস্পেক্টর সাকিনা আজ শুধুই একজন অফিসার নন—তিনি প্রতীক সাহসের, মমতার, এবং দায়বদ্ধতার।

‘লুক’ ফিরল, জয়ের ইঙ্গিত? হার্দিক পাণ্ড্যের রূপ বদল ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *