লাল ত্রিপলের আড়ালে কী চলছে? ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ধ্বংসস্তূপে মুরিদ বিমানঘাঁটির নতুন তৎপরতা

লাল ত্রিপলের আড়ালে কী চলছে? ‘অপারেশন সিঁদুর’! গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় যে মুরিদ বিমানঘাঁটিকে কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা, সেই ঘাঁটিতেই ফের নড়াচড়া শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা…

December 19, 2025
1 min read

লাল ত্রিপলের আড়ালে কী চলছে? ‘অপারেশন সিঁদুর’!

গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় যে মুরিদ বিমানঘাঁটিকে কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা, সেই ঘাঁটিতেই ফের নড়াচড়া শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের চাকওয়াল জেলার মুরিদ বিমানঘাঁটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন ঢেকে ফেলা হয়েছে লাল ত্রিপল দিয়ে। এই দৃশ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে— ধ্বংস হওয়া ঘাঁটিতে কি পুনর্নির্মাণ চলছে, না কি নতুন করে কোনও সামরিক প্রস্তুতি?

১০ মে ভোরে ভারতীয় সেনার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মুরিদ বিমানঘাঁটির যে কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ভবনটি ধ্বংস হয়, সেখান থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা পরিচালনা করত পাক বাহিনী। পাক সেনার জনসংযোগ দফতর আইএসপিআর-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধরি নিজেই সে সময় ওই হামলার কথা স্বীকার করেছিলেন। ভারতের হামলায় শুধু মুরিদ নয়, রাওয়ালপিন্ডির নুর খান এবং পঞ্জাবের শোরকোটে রফিকি বিমানঘাঁটিও গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেনা সূত্রের দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেই এই আঘাত হানা হয়।

মুরিদ বিমানঘাঁটি পাক বায়ুসেনার ড্রোন অপারেশনের অন্যতম কেন্দ্র। এখানে থাকা পাঁচটি ড্রোন স্কোয়াড্রন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রথম কয়েক দিনে নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছিল বলে ভারতীয় সেনার দাবি। সেই হামলার জবাবেই মুরিদের মূল নিয়ন্ত্রণ ভবনটিকে নিশানা করা হয়।

হামলার পর কয়েক মাস ধরে উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছিল, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি সবুজ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর তোলা নতুন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেই আচ্ছাদন আরও বড় হয়েছে এবং রং বদলে লাল করা হয়েছে। এই পরিবর্তনই নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, লাল ত্রিপলের আড়ালে নতুন করে রেডার ব্যবস্থা কিংবা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সরঞ্জাম বসানোর কাজ শুরু হয়ে থাকতে পারে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষক ড্যামিয়েন সাইমনের মতে, “পুরো ভবনটিকে নতুন ত্রিপল ও জালে ঢেকে ফেলা হয়েছে। এটি পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ হতে পারে। ভবনের চারপাশে কড়া নিয়ন্ত্রণও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভিতরে আগের চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিশালী ওয়ারহেড ছাদের কংক্রিট ভেদ করে ভিতরের কাঠামোয় মারাত্মক আঘাত হেনেছিল। তাই বাইরে থেকে শুধু মেরামতের কাজ নয়, ভিতরের পরিকাঠামোও নতুন করে গড়ে তুলতে হচ্ছে পাক সেনাকে।

নুর খান বিমানঘাঁটি পাক বায়ুসেনার রসদ সরবরাহের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, আর রফিকি ঘাঁটিতে রয়েছে জেএফ-১৭ ও মিরাজ় যুদ্ধবিমান। এই তিনটি ঘাঁটিই একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছিল বলেই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

লাল ত্রিপলের আড়ালে ঠিক কী চলছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এটুকু নিশ্চিত— ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ক্ষত এখনও পুরোপুরি সারেনি, আর সেই ধ্বংসস্তূপেই নতুন করে কিছু গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সেটি পুনর্নির্মাণ, না কি ভবিষ্যতের কোনও সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত— সেই উত্তর দেবে সময়ই।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *