লাল গ্রহের অন্তরালে: মঙ্গলের বুকে লুকিয়ে থাকা কোটি বছরের রহস্য

মঙ্গলের বুকে লুকিয়ে থাকা কোটি বছরের রহস্য পৃথিবীর মতোই মঙ্গল গ্রহেরও একটি বায়ুমণ্ডল আছে, যদিও তার উপাদান সম্পূর্ণ ভিন্ন। কার্বন ডাই অক্সাইডে ভরা এই লালচে গ্রহকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল চিরকালীন।…

August 31, 2025
0 min read

মঙ্গলের বুকে লুকিয়ে থাকা কোটি বছরের রহস্য

পৃথিবীর মতোই মঙ্গল গ্রহেরও একটি বায়ুমণ্ডল আছে, যদিও তার উপাদান সম্পূর্ণ ভিন্ন। কার্বন ডাই অক্সাইডে ভরা এই লালচে গ্রহকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল চিরকালীন। মঙ্গলের অভ্যন্তরে কী লুকিয়ে আছে, তা জানতে বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই রহস্যের জাল কিছুটা হলেও কাটল সাম্প্রতিক গবেষণায়, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্রিটিশ মহাকাশবিজ্ঞানী কনস্টান্টিনোস চার্লামবুস।

২০১৮ সালে নাসা পাঠিয়েছিল ‘ইনসাইট’ নামের ল্যান্ডারকে, যার মূল কাজ ছিল মঙ্গলের ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এটি মঙ্গলে সফলভাবে অবতরণ করে এবং চার বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত গ্রহটির ১,৩১৯টি কম্পন রেকর্ড করে। এই বিশাল তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্যের সন্ধান পেয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে সৌরজগত সৃষ্টির আদি লগ্নে একটি বিশাল মহাজাগতিক বস্তু এসে আছড়ে পড়ে মঙ্গলের বুকে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, সেটি একটি বিশাল উল্কাপিণ্ড হতে পারে। মঙ্গলের গঠন নিয়ে যে তিনটি মূল স্তর থাকে— কেন্দ্র বা ‘কোর’, তার আবরণী ‘ম্যান্টল’, এবং উপরের পৃষ্ঠতল— তার মধ্যে ম্যান্টল স্তরে আজও ছড়িয়ে আছে ওই মহাজাগতিক বস্তুটির টুকরো। প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই টুকরোগুলো মঙ্গলের ইতিহাসে নতুন আলোকপাত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরজগত গঠনের সময় গ্রহগুলির সঙ্গে এমন অনেক সংঘর্ষ ঘটেছে। পৃথিবীর ক্ষেত্রেও এমনটি হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু পৃথিবীর ম্যান্টলে এখন আর সেই টুকরোগুলির অস্তিত্ব নেই। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলের ম্যান্টল তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে বিকশিত হয়েছে, যার ফলে এই প্রাচীন টুকরোগুলো এখনও অক্ষত আছে। চার্লামবুস বলেন, “এর আগে কোনো গ্রহের অভ্যন্তর এত সূক্ষ্মভাবে দেখা সম্ভব হয়নি। আমরা যেন কোটি বছরের ইতিহাসের একটি জীবন্ত ছবি দেখতে পাচ্ছি।”

এই আবিষ্কার শুধু মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসই নয়, বরং সৌরজগতের প্রাথমিক গঠন প্রক্রিয়াও বোঝাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এটি প্রমাণ করে যে, পৃথিবী ও মঙ্গলের বিকাশে গতির পার্থক্যই আজকের এই ভিন্নতর চেহারার কারণ। মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করল এই গবেষণা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের পরিকল্পনাকেও আরও দৃঢ় ভিত্তি দেবে।

চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প ভারত, এসসিও শীর্ষবৈঠকে নতুন কূটনৈতিক দিশা খুঁজছেন মোদী

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *