রেস্তরাঁয় জলের বোতলেই ‘বিল শক’? জানুন আপনার অধিকার, কখন প্রতিবাদ করাই সঠিক

রেস্তরাঁয় জলের বোতলেই ‘বিল শক’? ভাবুন তো—রেস্তরাঁয় নিশ্চিন্তে খেতে বসেছেন। ওয়েটার জিজ্ঞেস করল, মিনারেল ওয়াটার নেবেন তো? সম্মতি দিলেন। খাওয়া শেষে বিল হাতে পেয়ে চোখ কপালে—২০ টাকার এক লিটার জলের…

January 12, 2026
1 min read

রেস্তরাঁয় জলের বোতলেই ‘বিল শক’?

ভাবুন তো—রেস্তরাঁয় নিশ্চিন্তে খেতে বসেছেন। ওয়েটার জিজ্ঞেস করল, মিনারেল ওয়াটার নেবেন তো? সম্মতি দিলেন। খাওয়া শেষে বিল হাতে পেয়ে চোখ কপালে—২০ টাকার এক লিটার জলের বোতলের দাম লেখা ৫৫ টাকা! প্রশ্ন জাগে, এটা কি মেনে নেওয়াই নিয়ম, না কি প্রতিবাদ করার অধিকার আপনার আছে?

সাম্প্রতিক এক রায়ে ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে—এমন ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করাই উচিত। ঘটনাটি শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে চণ্ডীগড়ের এক রেস্তরাঁয়। এক মহিলা খাওয়াদাওয়ার পর দেখেন, বিল হয়েছে প্রায় দু’হাজার টাকা। তার মধ্যে জিএসটি সবই আছে, কিন্তু ২০ টাকার সাধারণ মিনারেল ওয়াটারের জন্য নেওয়া হয়েছে ৫৫ টাকা—মুদ্রিত দামের প্রায় তিন গুণ।

প্রথমে জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে অভিযোগ জানালেও তা খারিজ হয়ে যায়। দমে না গিয়ে তিনি রাজ্য কমিশনে যান এবং নিজেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর যুক্তি ছিল খুব সহজ—যে জলের বোতল রেস্তরাঁ নিজে তৈরি করছে না, বাইরে যে বোতল নির্দিষ্ট দামে বিক্রি হয়, সেটির জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া কেন? পরিষেবা কর তো আগেই দিচ্ছি, তা হলে এই বাড়তি টাকা কোন যুক্তিতে?

রেস্তরাঁর তরফে আইনজীবী পাল্টা সওয়াল করেন—রেস্তরাঁয় বসে খাওয়ার আরাম, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কর্মীদের পরিষেবা—এই সব মিলিয়েই নাকি যে কোনও পণ্যের দাম কিছুটা বেশি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কমিশন এই যুক্তি একেবারেই মানেনি।

কমিশনের বক্তব্য ছিল পরিষ্কার: রেস্তরাঁ নিজের তৈরি খাবারের ক্ষেত্রে মেনু অনুযায়ী দাম ধার্য করতেই পারে। সেখানে তাদের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু বোতলবন্দি মিনারেল ওয়াটার, যা আগে থেকেই প্যাকেট করা এবং যার গায়ে এমআরপি লেখা রয়েছে—তার উপর বাড়তি দাম বসানো বেআইনি। বোতলটি রেস্তরাঁয় বিক্রি হচ্ছে না বাইরে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল—পণ্যের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য।

এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশন ২০১১ সালের ভারতীয় লিগাল মেট্রোলজি আইন উল্লেখ করেছে। ওই আইনে বলা আছে, এমআরপি-র মধ্যে প্যাকেজিং, কর এবং বিক্রেতার লাভ—সবই ধরা থাকে। তাই তার চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করা আইন ভাঙার শামিল।

তাই পরের বার রেস্তরাঁয় গিয়ে জলের বোতলের দামে অস্বাভাবিক কিছু দেখলে চুপ করে মেনে নেবেন না। বিল দেখুন, প্রশ্ন করুন, প্রয়োজনে অভিযোগ জানান। কারণ সচেতন ক্রেতাই পারেন এই ধরনের অন্যায্য প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে।

ভিন্‌রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *