ব্রুজ়োর বিস্ফোরক অভিযোগে কী বলল ইস্টবেঙ্গল?
ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ অস্কার ব্রুজ়োর সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সরাসরি কারও নাম না করলেও ‘মাস্টার’ বলে এক কর্তাকে নিশানা করেছেন ব্রুজ়ো। তাঁর অভিযোগ, ওই কর্তা বার বার দলের কাজে হস্তক্ষেপ করতেন, সাজঘরে ঢুকে ফুটবলার ও কোচিং স্টাফদের সমালোচনা করতেন। এমনকি পরিস্থিতি সামলাতে তাঁকে একাধিক বার সাজঘর থেকে বার করে দিতে হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন প্রাক্তন কোচ। ব্রুজ়োর মন্তব্যের পর মুখ খুলেছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার।
সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্যে ব্রুজ়ো অভিযোগ করেছেন, মরসুমের শেষ ম্যাচের আগে ওই কর্তা কয়েক জনকে জানিয়েছিলেন যে ম্যাচের রেফারি ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে থাকবেন। ব্রুজ়োর দাবি, সেই কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল। তাঁর বক্তব্য, ম্যাচে রেফারি স্বাধীন ভাবেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর মতে, দলের মধ্যে এ ধরনের ভুল তথ্য ছড়ালে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এর পর সাজঘরে ওই কর্তার ভূমিকা নিয়েও সরব হন ব্রুজ়ো। তাঁর দাবি, ‘‘বেশ কয়েক বার সাজঘর থেকে মাস্টারকে বার করে দিয়েছি। উনি সেখানে ঢুকে শুধু ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফদের সমালোচনা করতেন। দলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতেন এবং কাজের পরিবেশ নষ্ট করতেন। দলকে বাঁচাতেই আমাকে হস্তক্ষেপ করতে হত।’’
এখানেই থামেননি প্রাক্তন কোচ। তাঁর অভিযোগ, দলের অন্দরমহলের খবরও বাইরে চলে যেত ওই কর্তার মাধ্যমে। অনুশীলন, কৌশল এবং সম্ভাব্য একাদশ সংক্রান্ত তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পিছনে পরিকল্পিত ভাবে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ব্রুজ়োর বক্তব্য, ওই কর্তা দলের সঙ্গে নিয়মিত ঘুরলেও তাঁর উদ্দেশ্য নাকি দলের পাশে থাকা নয়, বরং নিজের প্রভাব বজায় রাখা।
ব্রুজ়ো আরও দাবি করেছেন, ইস্টবেঙ্গলের পাশের মাঠে মোহনবাগান অনুশীলন করলেও তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রচারের সমস্যা নিয়মিত দেখা যেত না। অথচ ইস্টবেঙ্গলের সম্ভাব্য একাদশ, কৌশল কিংবা দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বার বার বাইরে আলোচনা শুরু হত বলে তাঁর অভিযোগ।
যদিও ব্রুজ়োর মন্তব্য নিয়ে পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটেনি ইস্টবেঙ্গল। ক্লাবের কর্তা দেবব্রত সরকার প্রাক্তন কোচের অবদানের প্রশংসাই করেছেন। তাঁর কথায়, ব্রুজ়ো ইস্টবেঙ্গলকে যে পরিষেবা দিয়েছেন, তার জন্য ক্লাব গর্বিত। তাঁর কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গল আইএসএল পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেবব্রত বলেন, ব্রুজ়োকে ইস্টবেঙ্গলের কোচ করে আনার ক্ষেত্রে যাঁরা ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। তাই প্রাক্তন কোচের অভিযোগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ওঁকে বিব্রত করতে চাই না। নিজেও বিব্রত হতে চাই না।’’
এর আগে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তরফেও একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছিল, কিছু ব্যক্তি এবং সমাজমাধ্যমের পেজ ক্লাবের নাম ব্যবহার করে ব্রুজ়োকে ঘিরে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করছে। সেই অপপ্রচারে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। ক্লাব স্পষ্ট করেছিল, ব্রুজ়োর বিরুদ্ধে তাদের কোনও ক্ষোভ নেই এবং প্রাক্তন কোচকে তারা সম্মান করে।
আইএসএল এবং এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র প্রস্তুতিতে যখন ব্যস্ত ইস্টবেঙ্গল, ঠিক সেই সময়েই প্রাক্তন কোচের বিস্ফোরক মন্তব্যে ক্লাবের অন্দরমহল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।