রেটিনা দেখে স্মৃতিনাশের আভাস: বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কার

রেটিনা দেখে স্মৃতিনাশের আভাস স্মৃতিনাশ বা ডিমেনশিয়া এমন একটি মানসিক অসুস্থতা, যা কেবল ভুলে যাওয়া নয়, সঙ্গে নিয়ে আসে মনের আরও নানা জটিলতা। কখনও আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, কখনও প্রচণ্ড রাগ,…

January 26, 2025
0 min read

রেটিনা দেখে স্মৃতিনাশের আভাস

স্মৃতিনাশ বা ডিমেনশিয়া এমন একটি মানসিক অসুস্থতা, যা কেবল ভুলে যাওয়া নয়, সঙ্গে নিয়ে আসে মনের আরও নানা জটিলতা। কখনও আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, কখনও প্রচণ্ড রাগ, আবার কখনও সিদ্ধান্তহীনতা—এসবই হতে পারে ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ। সমস্যা হলো, এই রোগ সাধারণত তিলে তিলে বাসা বাঁধে, এবং যখন লক্ষণগুলি প্রকাশ্যে আসে, তখন চিকিৎসার সুযোগ অনেকটাই হাতছাড়া হয়ে যায়।

এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায়, স্কটল্যান্ডের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে এমন একটি যন্ত্র তৈরি করছেন, যা সাধারণ চোখের পরীক্ষার মাধ্যমে ডিমেনশিয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করতে পারবে।

রেটিনায় কীভাবে ধরা পড়ে ডিমেনশিয়ার আভাস?

এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটি এবং গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই অভিনব পদ্ধতির গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, মানুষের চোখ, বিশেষত রেটিনা, শুধু দৃষ্টিশক্তির নয়, বরং মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ অবস্থারও একটি আভাস দেয়। রেটিনা ও অপটিক স্নায়ুতে এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তন ঘটে, যা থেকে স্নায়বিক রোগের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব।

কিন্তু এই পরিবর্তন খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। সেজন্য প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তি। গবেষকরা এমন একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, যা রেটিনার ছবি বিশ্লেষণ করে মস্তিষ্কে আসন্ন রোগের আভাস দিতে পারে।

স্মৃতিনাশের দুই প্রধান ধাপ

ডিমেনশিয়ার প্রধানত দুটি ধাপ রয়েছে। প্রথমটি হলো অ্যালঝাইমার্স, যেখানে রোগী ধীরে ধীরে সব কিছু ভুলতে শুরু করেন। দ্বিতীয়টি হলো ভাসকুলার ডিমেনশিয়া, যেখানে রোগীর আচরণে ও মানসিক অবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন দেখা যায়।

উদাহরণস্বরূপ, কেউ হয়তো একাধিক কাজ একসঙ্গে করতে পারছেন না, কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে, কিংবা অস্বাভাবিক উদ্বেগে ভুগছেন। এই সব লক্ষণ দিনের পর দিন দেখা দিতে পারে। গবেষকরা বলছেন, রেটিনা দেখে এইসব পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা

গবেষণাটি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিশেষ অ্যালগরিদম রেটিনার ছবি বিশ্লেষণ করে দ্রুত এবং নিখুঁত ফলাফল দিতে পারে। রেটিনায় উপস্থিত স্নায়ুকোষ ও রক্তজালিকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে মস্তিষ্কের সঠিক চিত্র তুলে ধরা সম্ভব।

আগের গবেষণার ভিত্তি

এর আগেও বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রেটিনার জরিপ হৃদ্‌রোগ, কিডনি সমস্যার মতো জটিল রোগের পূর্বাভাস দিতে পারে। এই নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে, রেটিনা মনের রোগেরও আভাস দিতে সক্ষম।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন আশা

এই নতুন প্রযুক্তি ডিমেনশিয়ার মতো রোগের প্রাথমিক ধাপ চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে, যা চিকিৎসার সুযোগ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেটিনার ভাষা পড়ে শুধু স্মৃতিনাশ নয়, মস্তিষ্কের আরও অনেক সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

এই প্রযুক্তি কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, সামাজিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ডিমেনশিয়া ধরা পড়ার আগেই নির্ধারণ করা গেলে, রোগীর জীবনমান উন্নত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী হতে পারে।

উপসংহার

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে আমরা প্রতিনিয়ত নতুন দিক আবিষ্কার করছি। স্মৃতিনাশের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি যদি একটি সাধারণ চোখের পরীক্ষা থেকে আগেভাগে জানা যায়, তবে তা মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার পথে এক বড় পদক্ষেপ হবে। বিজ্ঞানীদের এই প্রয়াস আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ ও সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করবে।

বিয়ের মরসুমে সোনা ৮১ হাজার পেরোল! গয়না না কিনে কীভাবে বিনিয়োগে লাভ বাড়ানো যায়?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *