রিয়াধের আকাশে আতঙ্ক!
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আঁচ এ বার পৌঁছল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধেও। শনিবার ভোরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছু পরেই কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী পরে দাবি করে, সৌদি রাজধানীর কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, রিয়াধের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
রয়টার্সের ছবি ও ভিডিয়োয় বিমানবন্দরের কাছে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। একটি জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় আগুন লাগার দৃশ্যও প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ওই আগুন ঠিক কী ভাবে লাগল এবং সেটি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফল কি না, তা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে সব তথ্য স্পষ্ট ছিল না। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। হামলায় প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও তারা দেয়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি রাজধানীতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কয়েকটি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। একই অভিযানের অংশ হিসাবে লোহিত সাগরের তীরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও তেলকেন্দ্র ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাকেও নিশানা করার দাবি করেছে তারা। হুথিদের বক্তব্য, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলার জবাবেই এই পাল্টা অভিযান। তবে রিয়াধে ঠিক কোন কোন স্থাপনা তাদের নিশানায় ছিল, তা বিস্তারিত জানায়নি গোষ্ঠীটি।
ঘটনার আগে রাতেই রিয়াধ এবং রাজধানীর পূর্বে আল-খারজ় এলাকায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল সৌদি প্রশাসন। বাসিন্দাদের সম্ভাব্য আকাশপথের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা করা হয়। রিয়াধের বাসিন্দাদের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। বিমানবন্দরেও কিছু সময় বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হামলা চলতি সংঘাতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ার পর রিয়াধকে লক্ষ্য করে এটিই প্রথম প্রকাশ্য হামলার ঘটনা বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে। হুথিরা এর আগে সৌদি জাহাজ এবং লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথকে ঘিরে হুমকি বাড়িয়েছে। ফলে নতুন করে সৌদি রাজধানী ও জ্বালানি পরিকাঠামো নিশানায় আসায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের উপর হুথি হামলা এবং ইয়েমেনে তাদের সামরিক তৎপরতার নিন্দা করেছে। অন্য দিকে, সৌদি আরবও ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পাল্টা হামলা ও প্রতিরোধের এই পর্ব পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে রিয়াধের সাম্প্রতিক হামলা শুধু একটি শহরকে ঘিরে নিরাপত্তা-সঙ্কট নয়, লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ ও বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের উপরও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। সংঘাত কত দূর গড়ায়, আপাতত সেটিই নজরে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।