রাস্তা আটকে কিশোরীকে হেনস্থার অভিযোগ!
বিহারের জামুইয়ে দুই দশম শ্রেণির পড়ুয়াকে রাস্তায় আটকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে এক দল যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার দু’টি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। ভিডিয়ো এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সোমবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনায় ইতিমধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও কয়েক জনের খোঁজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। জামুই শহরের বাসিন্দা এক কিশোরী এবং তার সহপাঠী কিশোর কোচিং ক্লাস শেষ করে স্কুটারে করে ফিরছিল। পথে এক দল যুবক তাঁদের থামিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কয়েক জন মিলে তাঁদের ঘিরে ধরে নানা প্রশ্ন করছে। কিশোরকে এক সময় জামার কলার ধরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং মারধর করার দৃশ্যও রয়েছে বলে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অন্য একটি ভিডিয়োয় কিশোরীকে ঘিরে ধরে অশালীন ভাবে স্পর্শ করার এবং তাঁকে টেনে বা তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার দৃশ্য দেখা যায় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। কিশোরীকে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে দু’জনেই স্কুটারে করে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভিডিয়োগুলির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও ঘটনাক্রম পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরেই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। জামুইয়ের পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ দয়াল জানিয়েছেন, ফুটেজের সাহায্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। প্রাথমিক ভাবে ভিডিয়োয় ছ’সাত জনকে দেখা গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে শনাক্ত করার পর গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর-কিশোরী দু’জনেরই বয়স ১৮ বছরের কম। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাবালকদের জড়িত থাকার কারণে মামলাটি সংবেদনশীল ভাবেই তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পকসো আইনের আওতায় পদক্ষেপের কথাও উঠে এসেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ঘটনার নিন্দা করে নাবালিকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ দিকে, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ভিডিয়োয় দেখা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার সময়ে তাঁদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে চূড়ান্ত ভাবে চিহ্নিত না করার কথাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।