রাশিয়ার সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতিতে ভারত!
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বার্তা দিলেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আমেরিকার শুল্কনীতির ফলে ভারতের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা রাশিয়া পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া ভারত থেকে কৃষিজাত পণ্য ও ওষুধ-সহ আরও নানা পণ্য বেশি পরিমাণে আমদানি করার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, এই আশ্বাসে আদৌ কতটা বাস্তবিক লাভ হবে ভারতের?
সমস্যার মূল কারণ হলো, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বিপুল এবং তা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে যত পণ্য রাশিয়া ভারতকে বিক্রি করে, ভারত সেখান থেকে তার এক চতুর্থাংশও রাশিয়ায় বিক্রি করতে পারে না। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত ওই বছর রাশিয়া থেকে প্রায় ৬৬০০ কোটি ডলারের (প্রায় ৫.৮ লক্ষ কোটি টাকা) পণ্য কিনেছে। এর মধ্যে প্রধানত ছিল খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া তেলের দাম অনেক কমিয়ে দেয়, ফলে ভারত সুযোগ নিয়ে সস্তায় বেশি করে তেল আমদানি শুরু করে।
কিন্তু বিপরীতে ভারত থেকে রাশিয়ায় গিয়েছে মাত্র ৪১০ কোটি ডলারের (প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা) পণ্য। অর্থাৎ, ওই বছরই রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকায়। এই অস্বস্তিকর পরিসংখ্যানই বিশেষজ্ঞদের মনে সন্দেহ জাগাচ্ছে— পুতিনের নতুন আশ্বাসে এই ভারসাম্য আদৌ কতটা বদলাবে?
রাশিয়া থেকে ভারত শুধু তেলই নয়, বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামও কেনে। এছাড়াও রাসায়নিক দ্রব্য, ধাতু এবং যন্ত্রপাতির মতো বিভিন্ন পণ্যও রাশিয়া থেকে আমদানি করে ভারত। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের বড় অংশই একমুখী।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের আগে রাশিয়ার প্রধান ক্রেতা ছিল চিন। নেদারল্যান্ডস ও আমেরিকার সঙ্গেও রাশিয়ার ব্যাপক ব্যবসা চলত। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমী দেশগুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, ফলে বাজার হারায় মস্কো। তখনই রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে দ্রুত উঠে আসে ভারত। বর্তমানে রাশিয়ার রফতানি বাজারে চিনের পরেই ভারতের স্থান। ২০২৩ সালের হিসাবে রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ১৬.৮ শতাংশ এখন ভারতের সঙ্গে। চিন ও রাশিয়ার মধ্যে ওই বছর প্রায় ১১.৪ লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে, যা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের তুলনায় অনেক বেশি।
অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কেনায় আমেরিকার অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে, যা মার্কিন বাজারে ভারতের রফতানিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। পুতিন এখন সেই ক্ষতি পূরণ করার আশ্বাস দিলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে শুধুমাত্র কৃষিপণ্য বা ওষুধের আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতির বড় সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যদি রাশিয়া সত্যিই ভারতীয় পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ায়, তবে ভারতের রফতানি খাত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে ভারতীয় কৃষি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও টেক্সটাইল খাতের জন্য। কিন্তু যতক্ষণ না সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, ততক্ষণ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
পুতিনের এই আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে, তা এখন সময়ই বলবে। তবে আপাতত ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ একটাই— রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলা এবং বিপুল ঘাটতির বোঝা ধীরে ধীরে কমানো।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?