রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম: ক্যাগ রিপোর্টে বিস্তর অভিযোগ

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ক্যাগ (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ থেকে অধ্যাপকদের পদোন্নতি পর্যন্ত একাধিক বিষয়ে…

November 16, 2024
1 min read

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ক্যাগ (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ থেকে অধ্যাপকদের পদোন্নতি পর্যন্ত একাধিক বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। ৯ সেপ্টেম্বর ক্যাগ রাজ্যের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের দপ্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযোগগুলির জবাব চাওয়া হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এই বিষয়ে কোনো উত্তর দেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপককুমার রায় জানিয়েছেন, আগামী এগ্‌জ়িকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকের পর চিঠির জবাব পাঠানো হবে। একই বক্তব্য জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার। তবে কবে সেই বৈঠক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ক্যাগের প্রধান অভিযোগ

২০১৫ সাল থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের অডিট করে ক্যাগ। এই অডিটে একাধিক আর্থিক অনিয়ম উঠে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল:

  1. উপাচার্যের বাংলো নির্মাণ: ক্যাগের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, উপাচার্যের বাংলো ও কর্মীদের আবাসন নির্মাণে অতিরিক্ত ২৫.৮১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
  2. টেন্ডার বিধি লঙ্ঘন: বিভিন্ন নির্মাণ কাজ ও সরঞ্জাম কেনার জন্য সরকারি টেন্ডার বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। গাড়ি কেনা, তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ক্রয় এবং অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।
  3. অতিরিক্ত খরচ: ৯৭ লাখ টাকার চেয়ার-টেবিল কেনার ক্ষেত্রে পরিবহন খাতে ৫.৪৮ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।
  4. পদোন্নতিতে অনিয়ম: ১২ জন অধ্যাপকের পদোন্নতির ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নিয়ম মানা হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আচার্যের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
  5. ক্যান্টিন নির্মাণ: ২২ লাখ টাকার ক্যান্টিন নির্মাণ খরচকেও সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেছে ক্যাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া

উপাচার্য দীপককুমার রায় জানিয়েছেন, এই অনিয়মের বেশিরভাগটাই তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগে হয়েছে। ২০২৩ সালের অগস্ট মাসে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এবং অডিটে ওঠা অভিযোগগুলি মার্চ ২০২৩-এর আগের সময়কালের। অভিযোগে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের কাছে ক্যাগের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

টেন্ডার ছাড়াই বরাত

ক্যাগের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় টেন্ডার আহ্বান না করেই বিভিন্ন সংস্থাকে আড়াই কোটি টাকার কাজের বরাত দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের সাত লাখ টাকার কর বাবদ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

অধ্যাপক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগের তালিকায় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সুব্রত সাহার নামও রয়েছে। তিনি বলেন, “রিপোর্টটি আমি দেখিনি, তবে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম ভেঙেছে বলে মনে হয় না।”

ক্যাগের এই রিপোর্টে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা এবং কার্যপ্রণালী নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলির সঠিক তদন্ত এবং কার্যকর প্রতিকার প্রয়োজন।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *