রামমন্দিরে প্রণামীর টাকা আত্মসাতের আশঙ্কা কি আগেই টের পেয়েছিল ট্রাস্ট? তদন্তে উঠে আসছে নতুন প্রশ্ন

রামমন্দিরে প্রণামীর টাকা আত্মসাতের আশঙ্কা কি আগেই টের পেয়েছিল ট্রাস্ট? অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই…

July 5, 2026
1 min read

রামমন্দিরে প্রণামীর টাকা আত্মসাতের আশঙ্কা কি আগেই টের পেয়েছিল ট্রাস্ট?

অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই অনিয়মের ইঙ্গিত কি কয়েক মাস আগেই পেয়েছিল মন্দির ট্রাস্ট? যদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে সময়মতো কেন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।

প্রণামী চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই সিট গঠন করা হয়। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। যদিও সেই রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তদন্তকারী সূত্রের দাবি, গোটা ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রণামী কাউন্টারের কর্মী অবিনাশ শুক্ল। তাঁকে-সহ মোট আট জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘ দিন ধরেই মন্দিরের ভিতরে একটি সংগঠিত চক্র সক্রিয় ছিল।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার প্রায় তিন মাস আগেই প্রণামী গোনার কাজে অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। ট্রাস্টের কয়েক জন সদস্য নাকি হিসাবের গরমিল লক্ষ্য করেছিলেন। শুধু সন্দেহ প্রকাশই নয়, যাঁরা প্রণামীর টাকা গোনার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব কার্যকর করা হয়েছিল কি না, অথবা যদি না হয়ে থাকে তবে কেন হয়নি— সেই বিষয়গুলিও এখন তদন্তের আওতায়।

সূত্রের দাবি, গত মে মাসের শেষের দিকেই ট্রাস্টের কয়েক জন সদস্য পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সন্দেহভাজনদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অর্থ উদ্ধারের আবেদনও জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে সময় কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি বলে অভিযোগ। কেন অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়নি, সেই বিষয়টিও এখন তদন্তকারীদের নজরে।

তদন্তের স্বার্থে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছেন সিটের আধিকারিকেরা। ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার আগে প্রতিদিন ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা জমা পড়ত। কিন্তু চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ থেকে ২৬ লক্ষ টাকায়। এই হিসাবের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের অনুমান, প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ হয়ে থাকতে পারে। তবে এই দাবি এখনও তদন্তাধীন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তদন্তকারীরা গত বছরের পূর্ণকুম্ভের সময়কার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখছেন। সে সময় রামমন্দিরে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সাধারণ দিনে যেখানে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ভক্ত মন্দিরে আসতেন, সেখানে পূর্ণকুম্ভ চলাকালীন সেই সংখ্যা পৌঁছে যায় ১০ থেকে ১২ লক্ষে। বিপুল পরিমাণ প্রণামী সামলাতে বারাণসীর একটি সংস্থার মাধ্যমে ৪০-৪৫ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। তদন্তে দেখা হচ্ছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং কার সুপারিশে ওই কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত এখনও চলছে। তবে ইতিমধ্যেই উঠে আসা তথ্য থেকে স্পষ্ট, শুধু অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নয়, ট্রাস্টের তৎপরতা, নজরদারি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন সবার নজর সিটের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *