রাবার গিলে ফুসফুস অকেজো হওয়ার পথে!
খেলার ছলে একটি রাবার মুখে নিয়ে ফেলেছিল গাজিয়াবাদের চার বছরের এক শিশু। পরিবারের কেউ বুঝে ওঠার আগেই সেটি শ্বাসনালিতে আটকে যায়। প্রথমে কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় দেখা যায়, রাবারটি এমনভাবে শ্বাসনালির মধ্যে আটকে রয়েছে যে অক্সিজেন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে শিশুটির বাঁ দিকের ফুসফুস ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছিল।
শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সিটি স্ক্যানে বিপদের আসল কারণ ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এত কম বয়সী শিশুর শ্বাসনালি অত্যন্ত সরু হওয়ায় অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবু সময় নষ্ট না করে তাঁরা বিশেষ পদ্ধতিতে ‘ফ্লেক্সিবল ব্রঙ্কোস্কোপি’ করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এই জটিল প্রক্রিয়ায় একটি ক্যামেরাযুক্ত সরু নল শ্বাসনালির ভিতরে প্রবেশ করিয়ে আটকে থাকা রাবারের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। পরে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে সেটি বের করে আনা সম্ভব হয়। সফল অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং ফুসফুসও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।
শিশুদের ক্ষেত্রে কেন এই ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটে?
ছোট শিশুরা কৌতূহলবশত অনেক সময় হাতের কাছে থাকা জিনিস মুখে দিয়ে ফেলে। কয়েন, পেনের ঢাকনা, বোতাম ব্যাটারি, পুঁতি, কাচের গুলি কিংবা রাবারের মতো ছোট বস্তু শ্বাসনালিতে ঢুকে গেলে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
গলায় কিছু আটকে গেলে কী করবেন?
- শিশু যদি কাশতে পারে, তাকে কাশতে উৎসাহ দিন।
- খুব ছোট শিশু হলে তাকে উপুড় করে মাথা নিচু অবস্থায় ধরে পিঠে কয়েক বার চাপড় দিতে পারেন।
- মুখে হাত ঢুকিয়ে জোর করে বস্তু বের করার চেষ্টা করবেন না।
- শিশুর শ্বাস নিতে সমস্যা হলে বা ঠোঁট নীল হয়ে গেলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।
- বোতাম ব্যাটারি বা ধারালো বস্তু গিলে ফেললে এক মুহূর্তও দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই শিশুর প্রাণ বাঁচানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?