রাতের অন্ধকারে কোবরা কপ্টারের হামলা!
পাকিস্তানের বালুচিস্তানে উত্তেজনা চরমে। বিদ্রোহীদের কব্জায় থাকা জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনকে মুক্ত করতে রাতভর অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। হেলিকপ্টার থেকে ভারী বোমাবর্ষণ, মেশিনগানের গুলি— সব মিলিয়ে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের চিত্র ফুটে উঠেছে। ভোরের আলো ফুটতেই পাকিস্তানি সেনার বিশেষ কমান্ডো বাহিনী এসএসজি (স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ) মাশকাফের সুড়ঙ্গ এলাকায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু করেছে।
বিদ্রোহীদের ট্রেন দখল ও সংঘর্ষের সূত্রপাত
মঙ্গলবার সকালে বালুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেসে হামলা চালায় বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। চারটি শক্তিশালী বাহিনী একত্রে এ অপারেশনে অংশ নেয়— ফিদায়েঁ মজিদ ব্রিগেড, ফতেহ স্কোয়াড, জ়িরাব ইউনিট, এবং স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশন্স স্কোয়াড (STOS)। বিস্ফোরক ভরা ভেস্ট পরা মজিদ ব্রিগেডের যোদ্ধারা ট্রেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং শতাধিক যাত্রীকে পণবন্দি করেন।
রাতের অন্ধকারে কোবরা হেলিকপ্টারের হামলা
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাকিস্তান আর্মি অ্যাভিয়েশন কোরের ঘাঁটি থেকে চারটি হেলিকপ্টার উড়তে দেখা যায়। এরপর রাত গভীর হতেই পাকিস্তানি সেনা কোবরা এএইচ-১ হেলিকপ্টার দিয়ে বিদ্রোহীদের ওপর হামলা শুরু করে। মূলত সুড়ঙ্গের আশপাশের পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা বিদ্রোহীদের নিশানা করতেই সেনারা থার্মাল ইমেজিং সেন্সর ব্যবহার করে গুলি চালাতে শুরু করে। ভারী মেশিনগান ও বোমার সাহায্যে চলতে থাকে একের পর এক হামলা।
সেনা অভিযানের কঠোরতা
প্রাথমিক পর্যায়ে, পাকিস্তানি সেনা মূলত বিদ্রোহীদের তিনটি সহযোগী বাহিনীকে টার্গেট করে। কিন্তু বিদ্রোহীরা সহজে পিছু হটেনি। ভোর হতেই পাকিস্তানের এসএসজি কমান্ডো বাহিনী মাশকাফের ১৬টি সুড়ঙ্গ দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু করে। তবে ৮ নম্বর সুড়ঙ্গ যেখানে জাফর এক্সপ্রেসের পণবন্দিরা আটকে রয়েছে, সেটি এখনো বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে।
পণবন্দিদের ভাগ্য অনিশ্চিত
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার হয়তো পণবন্দি যাত্রীদের প্রাণের আশা ছেড়ে দিয়েছে। কারণ, বিদ্রোহীরা যাত্রীদের জাতিগত পরিচয় যাচাই করে শুধুমাত্র বালুচ জনগোষ্ঠীর নারী ও শিশুদের মুক্তি দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো পাঞ্জাবি অসামরিক পুরুষ বা সেনাসদস্য মুক্তি পাননি।
সরকারি তথ্য নিয়ে প্রশ্ন
পাক সরকার দাবি করেছে, তারা ১৫৫ জন পণবন্দিকে উদ্ধার করেছে এবং সংঘর্ষে ২৭ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মুক্তিপ্রাপ্ত যাত্রীরা মূলত বালুচ সম্প্রদায়ের মানুষ। বিদ্রোহীদের মূল ক্ষোভ ‘পাঞ্জাবি আধিপত্যবাদের’ বিরুদ্ধে। ফলে পাঞ্জাবি যাত্রীদের এখনো আটকে রাখা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বালুচিস্তানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কেবল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সংকটই নয়, বরং অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জাতিগত বৈষম্যের একটি ভয়াবহ চিত্রও তুলে ধরছে।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে