অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে পার্নো মিত্রর জ্যোতিষভাবনা!
অভিনেত্রী পার্নো মিত্রকে আমরা সাধারণত রঙিন পর্দায় দেখি নানা চরিত্রে। কিন্তু বাস্তব জীবনে তিনি অনেক বেশি স্পষ্টবাদী, যুক্তিনির্ভর এবং সংস্কারের বাইরে ভাবনাচিন্তায় ভরপুর এক মানুষ। তবে একটি ক্ষেত্রে তিনি ব্যতিক্রম—জ্যোতিষশাস্ত্র। সেই বিশ্বাস থেকেই মাঝে মাঝে রাশিফল পড়েন, তবে কোনও ধরণের “রাজযোগ”-এ তাঁর বিশ্বাস নেই।
আনন্দবাজারের এক সাক্ষাৎকারে পার্নো বলেন, “আমি জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করি ঠিকই, কিন্তু রাশিফলের সেই দৈনিক বা সপ্তাহিক ফলাফলে নয়। কারণ, প্রত্যেক মানুষের জন্ম সময় আলাদা, জন্মস্থান আলাদা। তাই একসাথে সবাইকে একই ফল দিয়ে দেওয়া যায় না। তাই বলে ‘রাজযোগ’-এর মতো বিষয়কে আমি বিশ্বাস করি না। এটি একেবারে নিখুঁত জ্যোতিষগণনা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়।”
পার্নো নিজে পশ্চিমী জ্যোতিষ অনুযায়ী বৃশ্চিক রাশির জাতিকা। সেই সূত্রে রাশিচক্র নিয়ে তাঁর নিজস্ব পড়াশোনাও আছে। তিনি মনে করেন, সঠিক জন্মতারিখ, সময় ও স্থানের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট জ্যোতিষ বিশ্লেষণই আসল—না যে মিডিয়ায় লেখা হয়, তা ব্যক্তিগত জীবনে মিলবেই এমন নয়।
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে পার্নোর সাবেকি আয়োজন
পার্নোর শিকড়ের টান যে দৃঢ়, তা স্পষ্ট হয় তাঁর অক্ষয় তৃতীয়ার ভাবনায়। পশ্চিমী স্টাইলে বড় হলেও, এই দিনটিকে তিনি পালন করেন বাঙালিয়ানার ছোঁয়ায়। পয়লা বৈশাখের মতো এই দিনেও তিনি ঠাকুরঘরে পুজো দেন, ধান বা গম রাখেন। ছোটবেলায় যেমন বাবার সঙ্গে দোকানে গিয়ে হালখাতার খাতা তুলতেন, সোনার গয়না কিনতেন—এখন যদিও গয়না কেনা হয় না, তবে গম রাখা ঠিক ভুলে যান না।
পার্নোর বিশ্বাস, গম হল লক্ষ্মীর প্রতীক। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন তাই নতুন ধান বা গম ঠাকুরঘরে রেখে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ নেওয়ার রীতি তিনি পালন করেন আন্তরিকভাবেই। তাঁর কথায়, “শুনেছি, সোনার গয়নার মতোই গম বা ধান রাখলেও শুভফল পাওয়া যায়। তাই সেগুলিই এখন পালন করি।”
সাজেও সাবেকিয়ানা
এই দিনটির সাজপোশাকেও থাকে এক ছোঁয়া বাঙালিয়ানা। শাড়ি, গয়না, ফুল—সব মিলিয়ে পুরনো দিনের ঘরানায় সেজে ওঠেন পার্নো। অতীতের স্মৃতিচারণায় বলেন, “ছোটবেলায় যে আনন্দটা পেতাম পয়লা বৈশাখ বা অক্ষয় তৃতীয়ায়, সেটা আজও রয়ে গেছে মনে। এখন হয়তো ব্যস্ততা বেড়েছে, কিন্তু ওই দিনের একটা ঘরোয়া ছোঁয়া আজও রাখতে চেষ্টা করি।”
পার্নো মিত্রর এই মতামত যেন এক নতুন বার্তা দেয়—আস্থা থাকুক, তবে তা হোক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে; অন্ধ বিশ্বাস নয়, হোক জ্ঞানের সঙ্গে সংস্কারের মেলবন্ধন।
দেশ ছেড়ে কাতারে সংসার? সইফ-করিনার নতুন জীবন শুরু হতে চলেছে!