রাঁধুনির হাঁড়িতে লুকোনো বিপদ? বাঙালির তিন নিত্যসঙ্গী সব্জি কি মাইগ্রেন বাড়াচ্ছে

বাঙালির তিন নিত্যসঙ্গী সব্জি কি মাইগ্রেন বাড়াচ্ছে! হঠাৎ করে মাথার এক পাশটা ধরে ব্যথা শুরু হল। আলো সহ্য হচ্ছে না, শব্দে বিরক্ত লাগছে, সঙ্গে বমি বমি ভাব। কেউ বলছে “স্ট্রেস”,…

December 19, 2025
1 min read

বাঙালির তিন নিত্যসঙ্গী সব্জি কি মাইগ্রেন বাড়াচ্ছে!

হঠাৎ করে মাথার এক পাশটা ধরে ব্যথা শুরু হল। আলো সহ্য হচ্ছে না, শব্দে বিরক্ত লাগছে, সঙ্গে বমি বমি ভাব। কেউ বলছে “স্ট্রেস”, কেউ আবার “ঘুম হয়নি ঠিকমতো”— কিন্তু যাঁরা মাইগ্রেনে ভোগেন, তাঁরা জানেন এ ব্যথা কতটা আলাদা। ঋতু বদলের সময় এই সমস্যা আরও বাড়ে। আবহাওয়া, হরমোন, ঘুমের অনিয়ম— সবই মাইগ্রেনকে উসকে দিতে পারে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা নতুন করে আলোচনায় এনেছে আর একটা দিক— আমাদের রোজকার খাবার।

বিশেষ করে বাঙালির হেঁশেলে যে তিনটি সব্জি প্রায় প্রতিদিনই ব্যবহার হয়— আলু, টম্যাটো আর পেঁয়াজ— সেগুলিই নাকি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। শুনতে অবাক লাগলেও গবেষকেরা বলছেন, সব্জিগুলির দোষ নয়, বরং তাতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদানই এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

আমেরিকার ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ মাইগ্রেন ডিজ়অর্ডার’-এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এই তিন সব্জিতে থাকা হিস্টামিন, টাইরামিন, স্যালিসাইলেট ও কিছু ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরে ঢুকে স্নায়ুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলস্বরূপ মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে— বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই এই সমস্যা রয়েছে।


টম্যাটো: স্বাদ বাড়ায়, ব্যথাও?

টম্যাটো ছাড়া রান্না যেন অসম্পূর্ণ। মাছের ঝোল হোক বা ডাল, সালাড বা চাটনি— সর্বত্রই তার উপস্থিতি। কিন্তু টম্যাটোয় থাকা হিস্টামিন ও স্যালিসাইলেট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার ট্রিগার হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা গ্লুটামেট ও সোলানিন নামের যৌগ শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা মাইগ্রেনের যন্ত্রণা তীব্র করে তোলে।

চিকিৎসকদের মতে, তাজা টম্যাটোর তুলনায় বেশি সমস্যা করে প্রক্রিয়াজাত টম্যাটো— যেমন কেচআপ, বোতলজাত সস, টিনজাত টম্যাটো স্যুপ বা ফ্রোজেন টম্যাটো। যাঁদের মাইগ্রেনের প্রবণতা আছে, তাঁদের এই ধরনের খাবার একটু বুঝে খাওয়াই ভাল।


আলু: সেদ্ধ আর চিপ্‌সের তফাত আছে

আলু মানেই আরামদায়ক খাবার। সেদ্ধ আলু থেকে শুরু করে চিপ্‌স— সবই প্রিয়। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন আলু অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত হয়। ইনস্ট্যান্ট আলু, চিপ্‌স, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো খাবারে সোলানিন নামের একটি উপাদানের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এটি এক ধরনের নিউরোটক্সিন, যা স্নায়ুকে উত্তেজিত করে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়াতে পারে।

মাইগ্রেন থাকলে আলু পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই, তবে ভাজাভুজি ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলাই ভাল।


পেঁয়াজ: কাঁচা হলে সাবধান

পেঁয়াজ ছাড়া বাঙালি রান্না ভাবাই যায় না। তবে তীব্র মাইগ্রেনের সময় কাঁচা পেঁয়াজ অনেকের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। পেঁয়াজে থাকা সালফার ও অ্যালিসিন রক্তে মিশে স্নায়বিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। আবার কাটা পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় রেখে দিলে বা বাসি পেঁয়াজ খেলে তাতে টাইরামিন তৈরি হয়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে।


সব মিলিয়ে বলা যায়, এই তিন সব্জি সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে যাঁদের মাইগ্রেন ঘন ঘন হয়, তাঁদের নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাবার বাছাই করা জরুরি। কখনও কখনও রান্নাঘরের ছোট বদলই মাথার যন্ত্রণা থেকে বড় স্বস্তি দিতে পারে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *