রবীন্দ্রসঙ্গীতের হিন্দি সংস্করণে অরিজিৎ!
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের গভীরতা ও আবেগ বাংলা ভাষার মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই যখন শোনা গেল যে এই গানগুলোর হিন্দি সংস্করণ তৈরি হচ্ছে, তখন অনেকেই কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এই উদ্যোগের মাঝেই ঘটে গেল এক চমকপ্রদ ঘটনা। জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিংহ দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের হিন্দি সংস্করণ গাওয়ার জন্য পারিশ্রমিক চেয়েছেন তিন কোটি টাকা! এ খবর শুনে হতবাক হয়েছেন খোদ বাবুল সুপ্রিয়।
রবীন্দ্রসঙ্গীতের হিন্দি সংস্করণের উদ্যোগ
মুম্বইয়ের এক নামী অডিয়ো সংস্থার উদ্যোগে মোট ছয়টি রবীন্দ্রসঙ্গীতকে হিন্দিতে অনুবাদ করা হচ্ছে। গানের অনুবাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিখ্যাত গীতিকার অমিতাভ ভট্টাচার্যকে, আর রবীন্দ্রনাথের প্রতিটি গানের পেছনের গল্প বর্ণনা করেছেন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। শান, শ্রেয়া ঘোষাল, বাবুল সুপ্রিয় এবং মধুমন্তী বাগচির মতো শিল্পীরা এই হিন্দি সংস্করণে কণ্ঠ দিয়েছেন। পরিকল্পনা ছিল, অরিজিৎ সিংহও একটি একক এবং একটি দ্বৈত গান গাইবেন।
বাবুল সুপ্রিয়কে অনুরোধ করা হয়েছিল অরিজিতের সঙ্গে গানের বিষয়ে কথা বলার জন্য। কিন্তু কিছুদিন পর অরিজিতের ম্যানেজারের কাছ থেকে এক অপ্রত্যাশিত বার্তা আসে— প্রতিটি গানের জন্য তাঁকে দিতে হবে দেড় কোটি টাকা, অর্থাৎ দুই গানের জন্য তিন কোটি!
পারিশ্রমিক শুনে বিস্মিত বাবুল!
অরিজিতের এই বিশাল অঙ্কের পারিশ্রমিকের কথা শুনে হতবাক হয়ে যান বাবুল সুপ্রিয়। তাঁর কথায়, “এটা তো কোনও বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের গৌরবকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার একটা প্রয়াস। আমরা সবাই কম পারিশ্রমিকেই কাজ করছি, কারণ এটা রবীন্দ্রনাথের গান। অরিজিতের মতো সাদামাটা জীবনযাপন করা একজন মানুষের কাছ থেকে এত বড় অর্থের দাবি আসবে, এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অরিজিৎ বরাবরই খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন, স্কুটারে ঘোরেন, গ্রামে সময় কাটান। তাহলে রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়ার ক্ষেত্রে এত বড় পারিশ্রমিক কেন?”
অডিয়ো সংস্থার অনুরোধেও বদলায়নি সিদ্ধান্ত
অডিয়ো সংস্থার কর্ণধার অরিজিতের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এমনকি, রয়্যালটি দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও মত বদলাননি অরিজিৎ। ফলে এই হিন্দি রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রকল্পে তাঁকে আর পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাবুল।
তিনি বলেন, “আমরা সকলেই খুব মন দিয়ে কাজটি করছি। শ্রেয়ার দু’টি গান, শান ও মধুমন্তীর গান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, বাংলা গানের আবেগ ঠিক রেখে হিন্দি ভাষার শ্রোতাদের কাছেও তা পৌঁছে দিতে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, অরিজিৎকে ছাড়া যে গানগুলো ভাবা হয়েছিল, তাকে ছাড়া এগুলো পূর্ণতা পাবে কি না, জানি না।”
রবীন্দ্রসঙ্গীত কি শুধুই ব্যবসায়িক?
সঙ্গীত মহলে প্রশ্ন উঠেছে, রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতো গভীর আবেগ ও ঐতিহ্যকে কি কেবলমাত্র অর্থ দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত? অন্যান্য শিল্পীরা যেখানে ন্যায্য পারিশ্রমিকের অনেক কমেই রাজি হয়েছেন, সেখানে অরিজিতের এই বিশাল অঙ্কের দাবি সত্যিই বিস্ময়ের। যদিও এ বিষয়ে এখনও অরিজিৎ সিংহের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই বিতর্কের মাঝেও একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— রবীন্দ্রসঙ্গীত কি শুধুই বাণিজ্যিক? নাকি এ গান ভালোবাসার, আত্মার, সংস্কৃতির? সময়ই দেবে তার উত্তর।