রঙে-রেখায় ভারতের ছাপ: সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রীর পাগড়ি কি শুধুই সাজ?

সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রীর পাগড়ি কি শুধুই সাজ? ২৬ জানুয়ারি এলেই দিল্লির কর্তব্যপথে সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সেনা-কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক ঝাঁকি আর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাশাপাশি…

January 27, 2026
1 min read

সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রীর পাগড়ি কি শুধুই সাজ?

২৬ জানুয়ারি এলেই দিল্লির কর্তব্যপথে সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সেনা-কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক ঝাঁকি আর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাশাপাশি আর একটি বিষয় নিয়মিত কৌতূহল জাগায়—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিরোশজ্জা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঝলমলে রঙিন পাগড়ি মাথায় নিয়ে কর্তব্যপথে হাজির হয়েছিলেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে, এই পাগড়ি কি শুধুই সাজ, না কি এর পিছনেও লুকিয়ে আছে কোনও বার্তা?

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বছরে অন্তত দু’বার বিশেষ ধরনের শিরোশজ্জায় দেখা যায় নরেন্দ্র মোদীকে—১৫ অগস্ট লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসে এবং ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসে। এই দুই দিন তাঁর পোশাক ও পাগড়ির দিকে স্বাভাবিক ভাবেই নজর থাকে দেশবাসীর। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শিরোশজ্জা যেন ভারতের বৈচিত্র্যের এক নীরব ভাষ্য হয়ে উঠেছে।

এ বছর সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী পরেছিলেন গাঢ় নীল কুর্তা, সাদা চুড়িদার এবং হালকা আকাশি নেহরু জ্যাকেট। তার সঙ্গে মানানসই রেশমের পাগড়িটি ছিল চোখে পড়ার মতো। টাই অ্যান্ড ডাই করা বহু রঙের কাপড়ে তৈরি এই পাগড়িতে ছিল সোনালি জরির কাজ। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ময়ূরের পালকের মোটিফ—মেরুন, বেগুনি, গোলাপি, সবুজ, হলুদ, নীল ও সাদা রঙের জমিতে সোনালি নকশা। ময়ূরের পালককে অনেকেই কৃষ্ণের প্রতীক হিসেবে দেখেন, ফলে এই নকশা আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

পাগড়ির কাপড় ও বাঁধার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট আঞ্চলিক ছাপ। এই ধরনের টাই অ্যান্ড ডাই নকশা মূলত রাজস্থানে প্রচলিত। পাগড়ি বাঁধার ভঙ্গিটিও জোধপুরি রীতির অনুকরণে—এক পাশে পেঁচানো কাপড়ের স্তর, অন্য দিকে হালকা পেখমের মতো ভাঁজ, আর নিচে ঝুলে থাকা অংশ প্রায় কোমর পর্যন্ত লম্বা। এ বছরও সেই রাজস্থানি ঘরানাই বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগের বছরগুলির দিকে তাকালেও একই প্রবণতা চোখে পড়ে। গত বছর তিনি পরেছিলেন জোধপুরি কেতার হলুদ-লাল-গেরুয়া কোটা কাপড়ের পাগড়ি। ২০২৪ সালে ছিল বাঁধনি পাগড়ি, যা রাজস্থান ও গুজরাতের ঐতিহ্যবাহী শিল্প। ২০২৩ সালে দেখা গিয়েছিল হলুদ-গেরুয়া লেহরিয়া পাগড়ি—এটিও গুজরাত ও রাজস্থানের পরিচিত বস্ত্রশিল্প। অর্থাৎ, গত কয়েক বছর ধরে সাধারণতন্ত্র দিবসে তাঁর শিরোশজ্জায় বারবার ফিরে এসেছে নিজের রাজ্য গুজরাত ও পড়শি রাজস্থান।

ব্যতিক্রম ছিল ২০২২ সাল। সে বছর তিনি পরেছিলেন উত্তরাখণ্ডের টুপি। ওই বছর রাজ্যে বিধানসভা ভোট থাকায় অনেকেই সেই শিরোশজ্জার সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তার যোগ খুঁজেছিলেন। তবে তার আগে ও পরে অধিকাংশ বছরই রঙিন পাগড়িতে জায়গা পেয়েছে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের বস্ত্রঐতিহ্য। অনেক সময় তাতে দলের রং গেরুয়ার উপস্থিতিও ছিল স্পষ্ট, যদিও এ বছর সেই রং চোখে পড়েনি—সম্ভবত তা সচেতন কোনও বার্তা নয়, বরং নকশার স্বাভাবিক বৈচিত্র্য।

সব মিলিয়ে, গত এক দশকের ধারাবাহিকতা বলছে—নরেন্দ্র মোদীর পাগড়ি শুধু ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশ নয়। তা যেন ভারতের নানা প্রান্তের রং, শিল্প ও সংস্কৃতিকে এক সুতোয় বেঁধে তুলে ধরার এক নীরব প্রয়াস। এ বছরও সেই ধারাই বজায় রইল, রঙে-রেখায় ধরা দিল ভারতের বহুত্বের ছবি।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Latest Government Jobs 2026 – Notifications, Exams & Vacancies

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *