রক্তাক্ত জুম্মা: ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ গেল অন্তত ৩১ জনের

রক্তাক্ত জুম্মা! পাকিস্তানে ফের রক্তে রাঙা হল উপাসনালয়। শুক্রবার জুম্মার নমাজ চলাকালীন রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকায় শিয়া টারলাই ইমামবাড়ার শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।…

February 6, 2026
1 min read

রক্তাক্ত জুম্মা!

পাকিস্তানে ফের রক্তে রাঙা হল উপাসনালয়। শুক্রবার জুম্মার নমাজ চলাকালীন রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকায় শিয়া টারলাই ইমামবাড়ার শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। পাক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, নমাজের সময় মসজিদ চত্বরে আচমকাই তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া, ধ্বংসস্তূপ আর আর্তচিৎকারে ভরে যায় পবিত্র প্রার্থনাস্থল। আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় বাইরে বের করে আনতে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইসলামাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী আত্মঘাতী জঙ্গিকে মসজিদের প্রবেশপথের কাছেই আটকে দেওয়া হয়েছিল। ঠিক সেই সময় ‘সুইসাইড ভেস্ট’— বিস্ফোরকভর্তি জ্যাকেট—পরিহিত ওই জঙ্গি নিজেকে উড়িয়ে দেয়। ফলে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারলেও প্রবেশপথ সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়।

পুলিশ আধিকারিক জাফর ইকবাল সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “বিস্ফোরণের পর আমরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করি। বহু আহতকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও মৃতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন, তবে হতাহতের সংখ্যা অনেক।” হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে অতীতেও একাধিক বার শিয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয় হামলার নিশানা হয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পঞ্জাব প্রদেশে শিয়া মসজিদে প্রাণঘাতী হামলার নজির রয়েছে। তাই প্রাথমিক ভাবে সন্দেহের তির কোনও সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠীর দিকেই ঘুরছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

ঘটনার পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী। কী ভাবে হামলাকারী এত কাছাকাছি পৌঁছল, নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, এবং এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে কারা—সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার পর পাকিস্তানে সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। প্রার্থনার সময় উপাসনালয়ে এমন হামলা শুধু প্রাণহানিই নয়, ধর্মীয় সহাবস্থানের উপরও গভীর আঘাত বলে মনে করছেন অনেকেই। এক শান্তিপূর্ণ জুম্মার দিনে নিরস্ত্র মানুষের উপর এই নৃশংস হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে আবারও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *