যে আগুন কেড়েছে ৯ প্রাণ, দু’দিন পরেই ‘স্বাভাবিক’ কলকাতার হোটেলপাড়া!
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দু’দিন পরেই এলাকার চেনা ছবি অনেকটাই ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আগুনে পুড়ে ন’জনের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সাত জন বাংলাদেশের নাগরিক। অথচ বৃহস্পতিবার ওই এলাকার হোটেলগুলিতে ফের দেখা গেল পর্যটক ও অতিথিদের আনাগোনা। কেউ আতঙ্ক নিয়ে থাকছেন, কেউ আবার সব জেনেশুনেই হোটেলে উঠছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। দমকল দফতর বৃহস্পতিবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ন’টি হোটেলকে শো-কজ় নোটিস দিয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ১০টি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় নজরে এসেছে অনিয়মও।
রাতারাতি বদলানোর চেষ্টা
‘শিখা ইন’-এর উল্টো দিকের একটি হোটেলেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে হোস পাইপ নামিয়ে পরিষ্কার করতে দেখা যায়। কোথাও আবার আপৎকালীন বেরোনোর রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়েছে। অভিযোগ, এলাকার কয়েকটি হোটেলে প্রয়োজনীয় হোস পাইপই ছিল না। দমকলের নোটিস পাওয়ার পর রাতারাতি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
তবে এই তৎপরতা কত দিন থাকবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অতীতে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করা হলেও সব ক্ষেত্রে তা গুরুত্ব দিয়ে মানা হয়নি।
ঘর হারিয়ে পথে মিনা
অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে অসহায় ছবিগুলির একটি মিনা মান্দোয়ানির। ‘শিখা ইন’ যে ভবনে ছিল, তার পাঁচ তলায় নিজের ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন তিনি। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর সেই বাড়িই ছিল তাঁর আশ্রয়।
বুধবার প্রশাসনের নির্দেশে এক ঘণ্টার মধ্যে ঘর ছাড়তে হয় মিনাকে। রাত কাটে শিয়ালদহ স্টেশনে। বৃহস্পতিবারও তাঁর সামনে অনিশ্চিত রাত। ফুটপাথে বসে তাঁর আক্ষেপ, অগ্নিকাণ্ডে তাঁর কোনও দোষ না থাকলেও তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাঁকেই। প্রশাসনের কাছে থাকার জায়গার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ভয় নিয়েও হোটেলে উঠছেন অতিথিরা
অগ্নিকাণ্ডের পরও বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষকে ওই এলাকায় দেখা গিয়েছে। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ ব্যবসার কাজে কলকাতায় এসেছেন। তাঁদের কেউ কেউ আশপাশের হোটেলে ওঠার আগে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।
ঢাকার সুলেমান হুসেন জানিয়েছেন, আগুনের ঘটনা জেনেই তিনি কলকাতায় এসেছেন। নিজের হোটেলে ওঠার আগে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা এবং জলের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নিয়েছেন। অন্যদিকে ইয়াসিন আহমেদের কথায়, ভয় লাগলেও আপাতত হোটেল ছাড়ার পরিকল্পনা নেই।
তদন্ত ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
‘শিখা ইন’-এর মালিক বীরেশ্বর মিত্রের এখনও খোঁজ মেলেনি। ঘটনায় আবু জাফর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর নামেই হোটেলটি লিজ় নেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের ন’টি হোটেল ও চারটি রেস্তরাঁকে নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নোটিস দিয়েছে দমকল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরও যদি শুধু কয়েক দিনের তৎপরতায় বিষয়টি থেমে যায়, তা হলে ভবিষ্যতে ফের বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।