যুবভারতীর ব্যর্থ শোর পর সবচেয়ে জরুরি কাজ: দর্শকদের টাকা ফেরাতে তৎপর নবান্ন

যুবভারতীর ব্যর্থ শোর পর সবচেয়ে জরুরি কাজ যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৭০ মিনিটের, তা থেমে গেল মাত্র ২২ মিনিটেই। যাঁকে এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার টাকা খরচ…

December 16, 2025
1 min read

যুবভারতীর ব্যর্থ শোর পর সবচেয়ে জরুরি কাজ

যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৭০ মিনিটের, তা থেমে গেল মাত্র ২২ মিনিটেই। যাঁকে এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার টাকা খরচ করে যুবভারতীর গ্যালারি ভরিয়েছিলেন দর্শকরা, সেই লিয়োনেল মেসিকে কার্যত দেখাই হল না। অব্যবস্থা, অতিরিক্ত ভিড় আর নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতির জেরে শনিবারের সেই অনুষ্ঠান রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়ে। আর তার সরাসরি মাশুল দিতে হয়েছে দর্শকদের। এবার সেই ‘গচ্চা যাওয়া’ টাকাই ফিরিয়ে দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।

নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট বার্তা—দর্শকদের টাকা ফেরাতেই হবে। এক মন্ত্রীর কথায়, “এর কোনও বিকল্প নেই।” অনুষ্ঠান ব্যর্থ হওয়ায় আয়োজক সংস্থার দায় যেমন প্রশ্নের মুখে, তেমনই সরকারের কাছেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কী ভাবে দ্রুত ও স্বচ্ছ ভাবে দর্শকদের অর্থ ফেরত দেওয়া যায়।

প্রশাসনের দাবি, টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া আদৌ জটিল নয়। বরং এই ধরনের বড় ইভেন্টে টাকা ফেরতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কা মাথায় রেখেই সাধারণত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ফলে তার নির্দিষ্ট পদ্ধতিও আয়োজকদের জানা থাকে। শহরের অভিজ্ঞ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলির মতে, সাধারণ ভাবে ৯০ দিনের সময়সীমা ধরা হলেও বাস্তবে সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব। “এটা নতুন কিছু নয়। সারা বিশ্বেই এমন উদাহরণ রয়েছে,” বলছেন এক ইভেন্ট সংস্থার কর্ণধার।

এই অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি হয়েছিল খাবার ডেলিভারি অ্যাপ ‘জ়োম্যাটো’-র মাধ্যমে। ফলে টিকিটের অর্থ আপাতত ওই সংস্থার কাছেই রয়েছে। নবান্নের তরফে ‘জ়োম্যাটো’-কে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিলেই রিফান্ড প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব। তবে পুরো টাকা দর্শকদের হাতে ফিরবে না। ইভেন্ট সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, জিএসটি, ‘জ়োম্যাটো’-র সার্ভিস ফি এবং ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কিছু কর কেটে নেওয়া হবে। বাকি অর্থ প্রথমে আয়োজক সংস্থার কাছে যাবে, সেখান থেকেই দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের অনুষ্ঠানের জন্য যুবভারতীর গ্যালারিতে প্রায় ৪৮ হাজার টিকিট ছাড়া হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ছিল সৌজন্যমূলক, অর্থাৎ বিনামূল্যের টিকিট। বাকি ৩৪ হাজার টিকিটের জন্য দর্শকরা টাকা দিয়েছিলেন। এই ৩৪ হাজার দর্শকই টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকারী বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।

তবে এখানেই একটি বড় প্রক্রিয়াগত জটিলতা সামনে এসেছে। অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্থার সর্বেসর্বা শতদ্রু দত্ত বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে। তাঁর অনুপস্থিতিতে কে সংস্থার হয়ে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেবেন, কে রিফান্ড সংক্রান্ত নথিতে সই করবেন—এই বিষয়গুলি এখনও স্পষ্ট নয়। আইনগত ভাবে তাঁকে ছাড়া এই প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করা যাবে কি না, তা নিয়েও নবান্নে আলোচনা চলছে।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই সব পারিপার্শ্বিক ও আইনি বিষয় স্পষ্ট হলেই ‘জ়োম্যাটো’-কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। আপাতত নবান্নের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার—যুবভারতীর সেই ব্যর্থ সন্ধ্যার দায় দর্শকদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। টাকা ফেরানোই এখন সরকারের কাছে প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি কাজ।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *