যুবভারতীতে টিফো বিতর্কে উত্তাল কলকাতা ডার্বির আবেগ!
কলকাতার ফুটবল মানেই আবেগ, ইতিহাস আর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা—বিশেষ করে East Bengal FC এবং Mohun Bagan Super Giant-এর মধ্যে। কিন্তু সেই আবেগই কখনও কখনও বিতর্কের জন্ম দেয়। ঠিক যেমনটা হল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক এক ম্যাচে, যেখানে একটি টিফো ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের একাংশ একটি টিফো তুলে ধরেন। সেই ব্যানারে লেখা ছিল—“ওয়েল ডান জামশেদপুর পুলিশ, আসছে বছর আবার হবে।” লেখার ধরন ও ইঙ্গিত অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর বলে মনে হয়েছে। বিশেষ করে ‘ডান’ শব্দটির ‘ও’ অক্ষরটি বেল্টের আকারে লেখা থাকায় তা আরও বিতর্ক উসকে দেয়। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মোহনবাগান সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন Debashis Dutta, যিনি মোহনবাগান ক্লাবের সভাপতি। তিনি সরাসরি এই ঘটনাকে “বাংলার অপমান” বলে আখ্যা দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গভীর হতাশা—তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলার ফুটবল সংস্কৃতি দাঁড়িয়ে আছে এই দুই ক্লাবের ঐতিহ্যের উপর। সেখানে এমন বার্তা শুধু প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেওয়া নয়, বরং গোটা বাঙালি পরিচয়ের বিরুদ্ধেও আঘাত।
দেবাশিস আরও বলেন, জামশেদপুরে মোহনবাগান সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা কোনও ক্লাবভিত্তিক বিষয় নয়, বরং তা এক বাঙালির উপর অন্যায়ের প্রতীক। সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে ধন্যবাদ জানানো—এমন বার্তা গ্যালারিতে তুলে ধরা হলে তা শুধু ফুটবল নয়, মানবিকতারও অবমাননা বলে মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল শিবির এই ঘটনাকে একটু ভিন্নভাবে দেখছে। ক্লাব কর্তা দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, এটি সমর্থকদের “অতি উৎসাহ”-এর ফল। তাঁর মতে, কেউ হয়তো না ভেবেই এমন কাজ করেছেন এবং বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করার প্রয়োজন নেই। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সমর্থকদের সচেতন করা জরুরি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা আর একটি টিফো তুলে ধরেন, যা প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই ব্যানারে লেখা ছিল আবেগঘন বার্তা, যা গ্যালারির অন্য এক ইতিবাচক দিক তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—ফুটবল শুধু খেলার লড়াই নয়, এটি সংস্কৃতি, সংহতি এবং পারস্পরিক সম্মানের জায়গাও। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, কিন্তু সেই লড়াই যেন কখনও মানবিকতা বা সামাজিক সংবেদনশীলতাকে অতিক্রম না করে—এই বার্তাই যেন উঠে আসছে যুবভারতীর এই বিতর্ক থেকে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?