যুদ্ধের হুঁশিয়ারিতে পাল্টা রাশিয়া: “আমরাও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছি”

যুদ্ধের হুঁশিয়ারিতে পাল্টা রাশিয়া! বিশ্বজুড়ে ভূরাজনীতির টানাপোড়েনের মাঝেই ফের উত্তেজনা বাড়াল আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে বাকযুদ্ধ। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সেনা কর্তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— “শান্তি চাইলে যুদ্ধের…

October 1, 2025
1 min read

যুদ্ধের হুঁশিয়ারিতে পাল্টা রাশিয়া!

বিশ্বজুড়ে ভূরাজনীতির টানাপোড়েনের মাঝেই ফের উত্তেজনা বাড়াল আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে বাকযুদ্ধ। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সেনা কর্তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— “শান্তি চাইলে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে মস্কো। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছে, তারাও নিজেদের সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়াচ্ছে।

পেন্টাগনের ডাকা জরুরি বৈঠকে হেগসেথ বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, কেউই চায় না। কিন্তু শান্তি যদি বজায় রাখতে হয়, তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। শুধু যুদ্ধের জন্য নয়, জেতার জন্যও প্রস্তুতি থাকা জরুরি।” যদিও তিনি কোনও দেশের নাম নেননি, তবুও ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাঁর এই মন্তব্য যে রাশিয়ার উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কোনও সন্দেহ নেই।

ভার্জিনিয়ার কোয়ানটিকো সামরিক ঘাঁটিতে হঠাৎ ডাকা এই বৈঠকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটির জেনারেল ও অ্যাডমিরালরা হাজির ছিলেন। স্বল্প নোটিসে কেন বৈঠক ডাকা হল, তা প্রথমে স্পষ্ট না হলেও হেগসেথের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে— সম্ভাব্য কোনও সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা।

ক্রেমলিনও পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি। কোনও দেশের নাম না করেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরাও নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছি এবং প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি জোরদার করছি।” রুশ প্রশাসনের এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন এমন অবস্থায় দুই পরাশক্তির এই বার্তা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রসঙ্গত, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শান্তি ফেরানোর জন্য একাধিক উদ্যোগ নিলেও তাতে এখনও সাফল্য মেলেনি। শুরুতে ইউক্রেনের প্রতি কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও এখন কিয়েভের পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প সরাসরি ইউক্রেনকে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন।

শুধু রাশিয়া নয়, পশ্চিম এশিয়াতেও আমেরিকার সামরিক সক্রিয়তা বেড়েছে। ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের সময় ইরানে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনা। এ ছাড়াও গাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন নৌবাহিনীকে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে পেন্টাগনের “যুদ্ধ প্রস্তুতি” বার্তা রাশিয়ার কাছে হুমকি হিসেবেই ধরা হয়েছে। ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধিতাও আরও তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোর সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে হুঁশিয়ারি শুধু আমেরিকার উদ্দেশেই নয়, গোটা ন্যাটো জোটের প্রতিও বার্তা বহন করছে।

যুদ্ধ চাই না, কিন্তু প্রস্তুতি রাখতে হবে— এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল, আগামী দিনে আমেরিকা ও রাশিয়ার শক্তি প্রদর্শনের লড়াই আরও বাড়তে চলেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে যে নতুন করে সামরিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে এখনই উদ্বিগ্ন কূটনৈতিক মহল। ইউক্রেন সংঘাতের শেষ কোথায়, তা এখনও অজানা। কিন্তু তাতে যে বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য আরও নড়ে গিয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল হেগসেথ ও ক্রেমলিনের বার্তায়।

পুজোর আনন্দে সুস্থ থাকুন: পুষ্টিবিদের ৫টি সহজ টোটকা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *