যুদ্ধের আবহে আমেরিকায় ইরান!
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে অবশেষে আমেরিকার মাটিতে পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল। এমন এক সময়ে তারা আমেরিকায় পা রাখল, যখন দুই দেশের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির ঘোষণা হয়েছে এবং আগামী শুক্রবার সেই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক সই হওয়ার কথা।
এই কূটনৈতিক পরিবর্তনের আবহেই নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চলেছে ইরান। তবে মাঠে নামার আগে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে দলটিকে। ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়েই স্বীকার করেছেন, ভিসা জটিলতা এবং বারবার প্রস্তুতি পরিকল্পনা বদলে যাওয়ার কারণে ফুটবলারদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
আমির জানান, অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পরে তারা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে পেরেছে। ভিসা পেতে বিলম্ব হওয়ায় শিবিরের সূচি বদলাতে হয়েছে এবং পরিকল্পনায় একাধিক পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দল এখন শুধুই ফুটবলে মন দিতে চায়।
কোচের কথায়, “আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি, জিততে এসেছি। মাঠের বাইরের ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবলে লক্ষ্য থেকে সরে যাব। তাই আমাদের সমস্ত মনোযোগ এখন খেলাতেই।”
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আমেরিকার সঙ্গে নানা বিষয়ে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল ইরানের। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রেই প্রস্তুতি শিবির করার কথা থাকলেও পরে সেটি মেক্সিকোয় সরিয়ে নিতে হয়। পাশাপাশি ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ কিছু টিকিট বাতিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের একাংশ ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
তবে কোচ আমির বারবার জোর দিয়েছেন যে ফুটবলকে রাজনীতির সঙ্গে মেলানো উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, “আমরা রাজনীতিবিদ নই। আমরা ফুটবল খেলি। ফুটবল মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, বিভাজন নয়।”
দলের অন্যতম তারকা ফুটবলার মেহদি তারেমিও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে শুধু ইরান নয়, আরও কয়েকটি দেশ বিশ্বকাপের আগে নানা প্রশাসনিক ও ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়েছে। তাঁর মতে, এই চাপকে অজুহাত বানালে চলবে না, বরং মাঠে নিজেদের প্রমাণ করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ।
তারেমি বলেন, “চ্যালেঞ্জ অবশ্যই আছে। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলতে এলে এমন পরিস্থিতি সামলানোর মানসিকতা থাকতে হয়। আমরা জানি আমাদের কী করতে হবে।”
বিশ্বকাপের আগে একাধিক বাধা অতিক্রম করলেও ইরান শিবির আত্মবিশ্বাস হারায়নি। কোচ আমিরের বিশ্বাস, কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার মানসিক শক্তি তাঁর দলের রয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দেশ।
এখন দেখার, মাঠের বাইরের বিতর্ক সরিয়ে রেখে ইরান কি বিশ্বকাপের মঞ্চে কাঙ্ক্ষিত সূচনা করতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?