মোদীর আলিপুরদুয়ার সফর বৃহস্পতিবার
আসন্ন বৃহস্পতিবার, ২৯ মে রাজ্যে পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরের গন্তব্য উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, যেখানে তাঁর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে—একটি প্রশাসনিক বৈঠক এবং অপরটি জনসভা।
বৃহস্পতিবার সকালে জনসভাস্থল হিসেবে নির্ধারিত আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ড পরিদর্শনে যান রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। ছিলেন বিজেপির সংগঠন সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মণ এবং আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা। তাঁরা মাঠের পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। উপস্থিত ছিলেন আরও একাধিক রাজ্য ও জেলা স্তরের বিজেপি নেতা।
যদিও রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন এখনও কিছুটা দূরে, তবুও প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ভারত-পাক সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সফরে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের একাধিক রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রকল্পের সূচনা করবেন। তবে প্রশাসনিক সভাটি আলিপুরদুয়ারে হবে না কি অন্যত্র, তা এখনও নির্ধারিত নয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় চূড়ান্ত করছে।
তবে নিশ্চিতভাবে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হবে আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপি কোনও খামতি রাখতে চাইছে না। ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মণ জানিয়েছেন, “অপারেশন সিঁদুরের পরে এই অঞ্চলের গুরুত্ব বেড়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা রাজনৈতিক সভার দায়িত্বে রয়েছি এবং প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।”
তবে প্রশ্ন উঠছে—আলিপুরদুয়ারকেই কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী? দীপকের ব্যাখ্যা, “আলিপুরদুয়ার একদিকে ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলির প্রবেশদ্বার, অন্যদিকে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত ভৌগোলিক সংকীর্ণ ভূখণ্ডের কারণে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী এখানে সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি।”
বৃহস্পতিবার মোদীর রাজস্থানে যে রকম কর্মসূচি রয়েছে—প্রথমে প্রশাসনিক সভা, পরে মন্দির দর্শন ও শেষে জনসভা—তেমনই ধাঁচে সাজানো হচ্ছে আলিপুরদুয়ারেরও পুরো সফরসূচি। রাজস্থানের বিকানেরে যেমন ১০৩টি অমৃত স্টেশনের উদ্বোধন করবেন মোদী, তেমনি আলিপুরদুয়ার থেকেও দেশের নানা প্রান্তে প্রকল্প ঘোষণা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২৯ মে মোদীর এই সফর শুধু আলিপুরদুয়ার নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটভূমিতে বিশেষ তাৎপর্য এনে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এখন শুধু দেখার, কী বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী আর কতটা প্রভাব পড়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে।
বার্লি আর চিয়ার জল: কিডনির যত্নে সুস্বাদু ওজন কমানোর নয়া উপায়