মেলবোর্নের রাত আর জোহানেসবার্গের ট্রফি: রোহিতের চোখে সেরা ভারত–পাক মহারণ

মেলবোর্নের রাত আর জোহানেসবার্গের ট্রফি! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মানেই বাড়তি উত্তেজনা। এখন পর্যন্ত এই মঞ্চে দু’দল মুখোমুখি হয়েছে নয় বার, যার মধ্যে আট বারই জিতেছে ভারত। এ বারের আসর বাদ…

March 3, 2026
1 min read

মেলবোর্নের রাত আর জোহানেসবার্গের ট্রফি!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মানেই বাড়তি উত্তেজনা। এখন পর্যন্ত এই মঞ্চে দু’দল মুখোমুখি হয়েছে নয় বার, যার মধ্যে আট বারই জিতেছে ভারত। এ বারের আসর বাদ দিলে বাকি প্রতিটি ম্যাচেই খেলেছেন রোহিত শর্মা। এত স্মরণীয় লড়াইয়ের ভিড়ে তিনি বেছে নিলেন নিজের কাছে সেরা ম্যাচ—২০০৭ সালের ফাইনাল। আর সঙ্গে স্মরণ করলেন চার বছর আগের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস, যেটা এখনও তাঁর চোখে ভাসে—বিরাট কোহলির ব্যাটে লেখা এক মহাকাব্য।

২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত প্রথম ICC Men’s T20 World Cup-এ গ্রুপ পর্বেই ভারত–পাক ম্যাচ টাই হয়েছিল। তখন টাই ভাঙতে ‘বোল-আউট’ নিয়ম ছিল, যেখানে ভারত জেতে। পরে ফাইনালেও মুখোমুখি হয় দু’দল। সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে পাঁচ রানে জিতে ট্রফি তোলে ভারত। রোহিতের কথায়, “আমার কাছে সেরা ম্যাচ বলতে ওই ২০০৭ সালের ফাইনালই। ওটার ধারেকাছে আর কিছু আসে না। কারণ ওই জয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বিশ্বকাপ।”

তিনি মনে করিয়ে দেন, সে বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচই ছিল বিশেষ—গ্রুপের বোল-আউট জয় এবং ফাইনালের ঐতিহাসিক সাফল্য। সেই শুরু থেকেই ভারত–পাক টি-টোয়েন্টি লড়াই যেন আলাদা মাত্রা পেয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে আর এক ম্যাচ বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে তাঁর মনে—২০২২ সালের বিশ্বকাপের লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, গমগমে মেলবোর্নে ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচের বাইরে চলে গিয়েছিল ভারত। রোহিত নিজেও দ্রুত আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছিলেন। মাঠের বাইরে বসে অসহায় ভাবে খেলা দেখা—সেই অভিজ্ঞতার কথাও খোলাখুলি বলেছেন তিনি।

“এক বার বাইরে বেরিয়ে এসে আবার ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলাম,” স্বীকার করেন রোহিত। “মাঠের বাইরে বসে যখন জানেন আপনি কিছুই করতে পারবেন না, তখন অসহায় লাগে। ওই রকম ম্যাচ চোখের সামনে দেখতে সত্যিই কঠিন।”

তার পর যা হয়েছিল, তা এখন ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ। কোহলির অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংস—চাপ, পরিস্থিতি আর আবেগের নিখুঁত মিশেল—ভারতকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেয়। রোহিত বলেন, “ওই শুরুটা দেখে মনে হয়নি আমরা জেতার ধারেকাছেও আছি। কিন্তু কোহলি অসাধারণ খেলেছিল। শেষটা ছিল অবিশ্বাস্য। নিঃসন্দেহে আমাদের খেলা অন্যতম সেরা ম্যাচ।”

বিশ্বকাপ, তার উপর পাকিস্তান—চাপ যে কতটা, তা বোঝাতে গিয়ে রোহিত জানান, দেশের হয়ে খেলা প্রতিটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই তিনি নার্ভাস থাকেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬০টির বেশি টি-টোয়েন্টি খেলেও সেই অনুভূতি বদলায়নি। “এমন একটা ম্যাচের কথাও মনে পড়ে না, যেখানে আমি চিন্তায় ছিলাম না,” বলেন তিনি। “যত বার ব্যাট হাতে নামব, তত বার এই অনুভূতি থাকবে।”

ভারত–পাক ম্যাচ শুধু স্কোরবোর্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেখানে জড়িয়ে থাকে ইতিহাস, আবেগ, প্রত্যাশা আর কোটি সমর্থকের স্বপ্ন। জোহানেসবার্গের ট্রফি জয়ের স্মৃতি যেমন রোহিতের কাছে চিরসবুজ, তেমনই মেলবোর্নের সেই রাতেও তিনি দেখেছেন বিশ্বাসের আর এক রূপ—যেখানে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেন এক ব্যাটসম্যান।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *