ক্রায়োনিক্সের মাধ্যমে অমরত্বের স্বপ্ন
আমেরিকার ক্রায়োনিক্স ইনস্টিটিউটের একটি চাঞ্চল্যকর দাবি, আগামী ২০০-২৫০ বছর পর মৃত ব্যক্তিরা মৃত্যুর পর আবারও বেঁচে উঠতে পারবেন। এই আশাবাদী ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এখন পর্যন্ত এই সংস্থায় ৫০০ জনেরও বেশি মৃতদেহ হিমায়িত অবস্থায় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২০০টির বেশি মস্তিষ্কও সংরক্ষিত রয়েছে। অমরত্বের এই আশায় অনেক মানুষ নাম নথিভুক্ত করতে শুরু করেছেন।
ক্রায়োনিক্স পদ্ধতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণ শুরু হয়েছিল ১৯৫৪ সালে, যখন প্রথমে মানুষের বীর্য হিমায়িত করার পরীক্ষা সফল হয়। পরবর্তীতে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট এটিনগার দেহ সংরক্ষণের ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে, যেখানে মৃতদেহ সংরক্ষণ করে পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে লেখা ছিল। ১৯৬৭ সালে চিকিৎসক জেমস বেডফোর্ডের দেহ প্রথমবারের মতো ক্রায়োনিক্স পদ্ধতিতে হিমায়িত করা হয়।
এই পদ্ধতির মাধ্যমে, মৃতদেহকে হিমাঙ্কের ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা করে তরল নাইট্রোজেনের পাত্রে রাখা হয়। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘সিনেট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ ফুট লম্বা স্টেনলেস স্টিলের চেম্বারে বহু মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ক্রায়োনিক্স ইনস্টিটিউটের কাছে ৫০০-এরও বেশি মৃতদেহ রয়েছে। এই সংস্থার অমরত্বের দাবি অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এই দাবি সম্পর্কে সন্দিহান। কিন্তু স্যাম অল্টম্যান, জেফ বেজোসের মতো ধনকুবেররা এই সংস্থায় বিনিয়োগ করছেন, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ক্রায়োনিক্সে দেহ সংরক্ষণের খরচ অনেক বেশি, কোটি টাকারও বেশি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি ২০০-২৫০ বছর পর কেউ সত্যিই বেঁচে ওঠেন, তা হলে সেই ব্যক্তির পরিচয় কী হবে? স্মৃতিবিলোপ হলে কেমন হবে তাঁর জীবন? এমনকি, দীর্ঘ সময় হিমায়িত থাকার পর যদি কেউ আবার বেঁচে ওঠেন, তা হলে তা কতদিন স্থায়ী হবে?
বিজ্ঞানীরা ক্রায়োনিক্সের তত্ত্বকে বুজরুকি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং অনেকে এটি মূর্খামি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, যারা এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করছেন, তারা মূলত লাভের আশায় বিনিয়োগ করছেন। পুরো বিষয়টির বাস্তবতা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ক্রায়োনিক্সের আশাবাদী ভবিষ্যদ্বাণী আমাদের মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অমরত্বের এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবসম্মত? যদিও এই সংস্থার কার্যক্রম এবং দাবি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও অনেক মানুষের কাছে এটি অমরত্বের একটি নতুন সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে নতুন জীবন পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা ক্রায়োনিক্স ইনস্টিটিউটে পা রেখেছেন। ভবিষ্যতে মৃত্যুর ধারণা কি সত্যিই পাল্টাবে?