মৃগী আক্রান্ত তরুণের মস্তিষ্কে বসল যন্ত্র!
১০ বছর ধরে মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন এক ২১ বছর বয়সি তরুণ। একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করেও সফলতা আসেনি। কিন্তু ফরিদাবাদের এক বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁকে সুস্থ করে তুলেছেন। নতুন এক ধরনের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তরুণের মস্তিষ্কে বসানো হয়েছে বিশেষ একটি যন্ত্র, যা তাঁর মৃগী রোগ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি চিকিৎসকদের।
কীভাবে কাজ করল এই পদ্ধতি?
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ এমআরআই স্ক্যানে তরুণের মৃগীর কারণ শনাক্ত করা যায়নি। এরপর তাঁরা স্টিরিয়ো-ইলেকট্রোএনসেফ্যালোগ্রাফি (SEEG) নামক পদ্ধতির সাহায্যে রোগ নির্ণয়ে এগিয়ে যান। এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কে সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচার করে ছোট দুটি ইলেকট্রোড বসানো হয়।
ইলেকট্রোড বসানোর পর মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠানো শুরু হয়, যা অকেজো স্নায়ু কোষগুলোকে চিহ্নিত করে এবং ধীরে ধীরে সেগুলিকে সক্রিয় করে তোলে। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার ফলে তরুণের খিঁচুনি অনেকটাই কমে এসেছে এবং রোগ নির্মূল হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
কেন এই পদ্ধতি বেছে নেওয়া হল?
মৃগী রোগ মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে হয়। কারও ক্ষেত্রে এটি জন্মগত হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে আঘাত বা স্নায়ুগত ত্রুটির ফলেও হতে পারে। স্নায়ুর সার্কিটে অতিরিক্ত স্পার্কিং ঘটলে খিঁচুনি হয়, যা মৃগীর অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই রোগের জন্য ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যা রোগীর সারা জীবন ধরে খেতে হতে পারে। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্নায়ুর কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা যায়, ফলে রোগ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রোগীর অবস্থার উন্নতি
তরুণের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তরুণের খিঁচুনি অনেকটাই কমে গিয়েছে এবং তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের পদ্ধতি মৃগী রোগীদের জন্য আশার আলো দেখাতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভারতের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই সাফল্য চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তাঁরা মনে করছেন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে আরও মৃগী রোগীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। আধুনিক চিকিৎসার এই সাফল্য শুধুমাত্র ভারত নয়, সারা বিশ্বের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।