মুম্বইয়ে বৃষ্টির টান!
ভারতে বর্ষা ঢুকেছে সময়মতোই। কিন্তু তার পর থেকেই যেন বদলে গিয়েছে চেনা ছক। যেখানে জুন মাসে সাধারণত মহারাষ্ট্র, গোয়া বা কর্নাটকে টানা বৃষ্টি দেখা যায়, সেখানে এ বছর বৃষ্টির ঘাটতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অন্য দিকে, মরুভূমির রাজ্য রাজস্থান অস্বাভাবিক বৃষ্টিতে ভিজছে। প্রকৃতির এই উল্টো স্রোতই এখন আবহবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
রাজস্থানে অতিবৃষ্টি, মহারাষ্ট্রে বৃষ্টির খরা
জুনের প্রথমার্ধে রাজস্থানে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৫৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব রাজস্থানে সেই পরিমাণ ২০০ শতাংশেরও বেশি। সাধারণত জুনের শেষ দিকে বা জুলাইয়ের শুরুতে সেখানে বর্ষা সক্রিয় হয়। অথচ এ বার মাসের শুরু থেকেই ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত।
অন্য দিকে মহারাষ্ট্রে ৪ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বই কিছুটা বৃষ্টি পেলেও রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। জলাধারগুলির জলস্তরও প্রত্যাশার তুলনায় কম।
পশ্চিমি ঝঞ্ঝার অস্বাভাবিক সক্রিয়তা
আবহবিদদের মতে, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির অন্যতম কারণ পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। সাধারণত শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন এই আবহাওয়া ব্যবস্থা উত্তর ভারতে বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটায়। কিন্তু এ বছর জুনের মাঝামাঝিও পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে।
ফলে উত্তর-পশ্চিম ভারতের বায়ুমণ্ডলে এমন পরিবর্তন হয়েছে, যা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক গতিপথে বাধা তৈরি করেছে। রাজস্থান, পঞ্জাব ও হরিয়ানায় বারবার ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার পিছনেও রয়েছে এই প্রভাব।
মৌসুমি বায়ুর দুই শাখার সমন্বয়ে সমস্যা
ভারতের বর্ষা মূলত আরব সাগরীয় এবং বঙ্গোপসাগরীয়— এই দুই শাখার উপর নির্ভরশীল। সাধারণ বছরে এই দুই শাখা পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি নিয়ে আসে।
এ বছর সেই সমন্বয় দুর্বল হয়েছে। ফলে আরব সাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প মহারাষ্ট্রে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না ঘটিয়ে অনেকটাই উত্তর দিকে সরে যাচ্ছে। তার সুফল পাচ্ছে রাজস্থান ও উত্তর-পশ্চিম ভারত।
সোমালি জেটও প্রত্যাশামতো শক্তিশালী হয়নি
বর্ষাকে শক্তি জোগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ‘সোমালি জেট’ নামে পরিচিত শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ। এটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা আরব সাগরে নিয়ে আসে।
কিন্তু এ বছর এই বায়ুপ্রবাহও স্বাভাবিক শক্তি ফিরে পায়নি। ফলে আরব সাগর থেকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা পশ্চিম উপকূলে পৌঁছতে পারেনি। উপগ্রহচিত্রেও দেখা গিয়েছে, মহারাষ্ট্র উপকূলে স্বাভাবিকের তুলনায় মেঘের ঘনত্ব কম ছিল।
মৌসুমি অক্ষরেখা সরে যাওয়াই বড় কারণ
মহারাষ্ট্রে বৃষ্টির ঘাটতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থান পরিবর্তন। সাধারণত এই অক্ষরেখা মধ্য ভারতের উপর দিয়ে বিস্তৃত থাকে এবং মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়ে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
এ বার সেই অক্ষরেখা উত্তরে সরে গিয়েছে। ফলে বৃষ্টির মূল অঞ্চলও উত্তর দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। রাজস্থান ও সংলগ্ন এলাকাগুলি বেশি বৃষ্টি পাচ্ছে, আর মহারাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত শুষ্ক থাকছে।
কৃষিতেও পড়তে পারে প্রভাব
মহারাষ্ট্র ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি রাজ্য। আখ, সয়াবিন, তুলো এবং বিভিন্ন ডালশস্যের উৎপাদন অনেকটাই বর্ষার উপর নির্ভরশীল।
যদি আগামী কয়েক সপ্তাহেও বৃষ্টির ঘাটতি বজায় থাকে, তবে চাষাবাদ, জলসংরক্ষণ এবং কৃষি অর্থনীতিতে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। তাই আবহবিদদের নজর এখন বর্ষার পরবর্তী গতিপথের উপর। কারণ জুনের এই অস্বাভাবিক আচরণ আগামী মৌসুমের কৃষি ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?