মিষ্টি বন্ধ, ওষুধ চলছে, তবু সুগার কমছে না? ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে কোথায় ভুল হচ্ছে

ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে কোথায় ভুল হচ্ছে! ডায়াবিটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই প্রথমেই মিষ্টি, চিনি বা মিষ্টি পানীয় পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু কিছু দিন পর রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা…

September 17, 2026
1 min read

ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে কোথায় ভুল হচ্ছে!

ডায়াবিটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই প্রথমেই মিষ্টি, চিনি বা মিষ্টি পানীয় পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু কিছু দিন পর রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রত্যাশা মতো কমেনি। তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে—মিষ্টি না খেয়েও কেন সুগার বাড়ছে? আসলে ডায়াবিটিসের নিয়ন্ত্রণ শুধু চিনি খাওয়া বা না খাওয়ার উপর নির্ভর করে না। শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা, ওজন, ঘুম, মানসিক চাপ, শারীরিক সক্রিয়তা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস—সবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দিল্লির চিকিৎসক বর্তিকা বিশ্বানীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু মিষ্টি বাদ দিলেই ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। শরীরে ইনসুলিন ঠিক ভাবে কাজ না করলে, অর্থাৎ ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স থাকলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। আবার লিভার থেকেও গ্লুকোজ় রক্তে নিঃসৃত হয়। তাই কেউ মিষ্টি না খেলেও রক্তে শর্করার মাত্রা প্রত্যাশার তুলনায় বেশি থাকতে পারে।

এখানে আরও কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ দিন ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ওজন বেড়ে যাওয়া এবং অনিয়মিত বা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে। একই খাবার খেলেও দু’জন মানুষের রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া এক রকম হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। শরীরের বিপাক, ইনসুলিনের কার্যকারিতা, শারীরিক সক্রিয়তা এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থার পার্থক্যেও ফল বদলাতে পারে।

ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স থাকলে কী করবেন?

ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি বা কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই শুধু কোনও একটি উপসর্গের চিকিৎসা না করে জীবনযাত্রার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত হাঁটা বা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শরীরচর্চা করা ও ওজন স্বাস্থ্যকর সীমায় রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।

খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার রাখাও উপকারী হতে পারে। শাকসব্জি, ডাল, সম্পূর্ণ শস্য, বাদাম বা বীজের মতো পুষ্টিকর খাবার বেছে নিয়ে অতিরিক্ত ভাজাভুজি, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট এবং মিষ্টি পানীয় কমানো যায়। তবে ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে সকলের জন্য একই খাদ্যতালিকা উপযুক্ত নয়।

ঘুমের দিকটিও অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখার চেষ্টা করুন। দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, যোগাভ্যাস বা ধ্যানের মতো পদ্ধতি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মিষ্টি বন্ধ করার পরেও যদি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না আসে, নিজের মতো করে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন না করা। নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ওষুধ এবং অন্যান্য কারণ মিলিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে পারেন।

অর্থাৎ, ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শুধু ‘মিষ্টি খেলাম কি না’—এই একটি প্রশ্নে আটকে নেই। খাবার, ঘুম, শরীরচর্চা, ওজন, মানসিক চাপ এবং চিকিৎসা—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা দরকার।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *