তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় মাকে ব্লক করতে চান সারা!!
এক সময় যেভাবে বলিউডে পা রেখে সকলের নজর কেড়েছিলেন সারা আলি খান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন ঠিক ততটাই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি। ছবি চলুক বা না চলুক, ট্রোলের বন্যা থেকে যেন মুক্তি নেই। কখনও তাঁর পোশাক, কখনও তাঁর ভক্তি, আবার কখনও অভিনয় ঘিরে চলে ঠাট্টা-মশকরা। কিন্তু এই সমস্ত কিছুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি যাঁর উপর পড়ছে, তিনি সারার মা অমৃতা সিংহ। আর সে কারণেই এখন নিজের মাকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখার কথা ভাবছেন সারা।
সারা আলি খান বলিউডে পা রেখেছিলেন রাজকীয় পরিচয়ের পাশাপাশি এক তাজা উদ্যম নিয়ে। সহজ স্বভাব, হিন্দি-উর্দু মিলিয়ে মিশ্রিত সংলাপ বলার ভঙ্গি, কবিতার মতো কথা বলা, হাসিখুশি মুখ—সবই মন কেড়েছিল দর্শকের। ‘কেদারনাথ’, ‘সিম্বা’-র মতো ছবির মাধ্যমে নজর কাড়লেও, সময়ের সঙ্গে যেন হোঁচট খেয়েছেন তিনি। ব্যাক টু ব্যাক ছবিগুলি বা তোতলানো সংলাপ ডেলিভারির ধরন নিয়ে কটাক্ষ শুরু হয়। তাঁর শিবভক্তির প্রকাশকেও কেউ কেউ ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে ব্যাখ্যা করেন।
সারা এসব ট্রোল বা মিমকে যতটা সহজভাবে নিতে পারেন, মা অমৃতা সিংহ তা পারেন না। যদিও তিনি কখনও সরাসরি কিছু বলেন না, কিন্তু মেয়ে টের পান—মা কষ্ট পাচ্ছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সারা নিজেই বলেছেন, “আমি চাইলেও মা সোশ্যাল মিডিয়ায় যা হচ্ছে তা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেন না। তিনি সব মন্তব্য পড়েন। আর সেই মন্তব্যগুলো অনেক সময় কুরুচিকর। আমি চাই না, এগুলো মা দেখুন। তাই ভাবছি, হয়তো মাকে আমার প্রোফাইল থেকেই ব্লক করে রাখব।”
এই কথার মধ্যেই ধরা পড়ে এক কন্যার অসহায়তা, যিনি একাধারে নিজের ক্যারিয়ার ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, আবার মা’কে সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন এই ট্রোলিংয়ের তীব্রতা থেকে। সারার মতে, সমালোচনা থাকবেই, আর সেটা একজন শিল্পীকে নিতে শিখতে হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের পক্ষে তা সামলানো কঠিন হয়ে যায়।
সারা জানেন, অমৃতা সিংহ বরাবরই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মা-ই ছিলেন তাঁর ছায়া, আশ্রয়। সেই মা যখন চুপচাপ কষ্ট পান মেয়ের অপমান দেখে, তখন সারা নিজেকে দোষী মনে করেন। সেই কারণেই হয়তো এখন সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় একদম নতুন এক সীমারেখা টানতে চাইছেন তিনি—মাকে সেই রুক্ষ, নির্মম মন্তব্যের জগৎ থেকে দূরে রাখতে।
এই সিদ্ধান্ত হয়তো কড়া, কিন্তু তাতে সারা যে মায়ের প্রতি কতটা সংবেদনশীল, তা স্পষ্ট। বলিউডের চাকচিক্যের আড়ালে এই গল্পটা এক নারীর আত্মসম্মানের, আর একজন কন্যার নিষ্পাপ ভালোবাসার।