মাস্ক বনাম রুবিও: হোয়াইট হাউসে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, কী বললেন ট্রাম্প?

মাস্ক বনাম রুবিও! আমেরিকার হোয়াইট হাউসে আবারও বিতর্ক! বৃহস্পতিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই তাঁর উপদেষ্টা তথা ধনকুবের ইলন মাস্ক এবং আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে বলে…

March 8, 2025
1 min read

মাস্ক বনাম রুবিও!

আমেরিকার হোয়াইট হাউসে আবারও বিতর্ক! বৃহস্পতিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই তাঁর উপদেষ্টা তথা ধনকুবের ইলন মাস্ক এবং আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কী নিয়ে বিতর্ক?

রুবিও অভিযোগ তোলেন, সরকারি কর্মীদের ওপর মাস্কের ‘খবরদারি’ গ্রহণযোগ্য নয়। এই নিয়ে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট আপত্তি জানান, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আরও কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে অন্যরাও সহমত হন, আর সেখান থেকেই শুরু হয় উত্তপ্ত তর্ক-বিতর্ক।

তবে ট্রাম্প পরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, “আমি সেখানে ছিলাম। কোনো বাদানুবাদ হয়নি। মাস্ক এবং রুবিও দুজনেই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন।” কিন্তু মাস্কের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের আগুন এখনও নেভেনি।

কেন প্রশ্নের মুখে মাস্ক?

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ডিওজিই’ (দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক দফতর)-এর প্রধান হিসেবে মাস্ককে নিয়োগ করেন। কিন্তু তাঁর কাজের ধরন নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মাস্ক আমেরিকার প্রায় ২৩ লক্ষ সরকারি কর্মচারীকে ইমেল করে জানিয়ে দেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে গত সপ্তাহে কী কাজ করেছেন। না জানালে ধরে নেওয়া হবে, তাঁরা চাকরি ছাড়তে ইচ্ছুক।”

এই ইমেল নিয়েই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। মার্কো রুবিওসহ অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন উপদেষ্টা হিসেবে মাস্কের কি আদৌ এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার আছে? সরকারি কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা একটি সংস্থা রয়েছে, যার নাম ‘অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট’ (ওপিএম)। তাদের এড়িয়ে মাস্ক কীভাবে সরাসরি কর্মীদের বরখাস্তের হুমকি দিতে পারেন?

বৈঠকে কী ঘটেছিল?

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েই মুখোমুখি হন মাস্ক ও রুবিও। মাস্ক যুক্তি দেন যে, সরকারি খরচ কমানো ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু রুবিও পাল্টা বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে ইতিমধ্যেই তাঁর দফতরের প্রায় দেড় হাজার কর্মী আগাম অবসরের আবেদন করেছেন।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মাস্ক বিদেশ দফতরের ‘অতিরিক্ত খরচ’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম ৪৫ দিনে বিদেশ দফতরের কোনো কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়নি। কিন্তু রুবিও তাঁর এই দাবি নস্যাৎ করে জানান, ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের আতঙ্কে দপ্তরের অনেকেই আগাম অবসরের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ট্রাম্পের অবস্থান কী?

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইঙ্গিত দেন যে, সরকারি খরচ কমানোর জন্য কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত থাকবে! তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কুড়ুল নয়, স্ক্যালপেল (অস্ত্রোপচারের ছুরি) ব্যবহার করব।” অর্থাৎ, ব্যাপক হারে নয়, বরং বেছে বেছে কর্মী ছাঁটাই করা হবে।

এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ কী?

মাস্ক ও রুবিওর মধ্যে এই মতবিরোধের ভবিষ্যতে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে এটি স্পষ্ট যে, আমেরিকার প্রশাসনিক কাঠামোতে মাস্কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করলেও, ভিতরে ভিতরে তাঁর উপদেষ্টাদের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এখন দেখার বিষয়, এই দ্বন্দ্বের পরিণতি কী দাঁড়ায়!

ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প! ঘোষণা করলেন নির্দিষ্ট তারিখও

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *