মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা!
মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় বহু বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বেকসুর খালাস পেলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুর ও আরও ছ’জন অভিযুক্ত। মুম্বইয়ের এনআইএ বিশেষ আদালত বৃহস্পতিবার রায় দেয় যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পেশ করা প্রমাণ যথেষ্ট নয় এবং কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।
২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার মালেগাঁও শহরে একটি বিস্ফোরণে সাত জন প্রাণ হারান, আহত হন শতাধিক। শহরের একটি মসজিদের পাশে একটি কবরস্থানে রাখা মোটরসাইকেলে রাখা ছিল দু’টি বোমা। সেই ভয়াবহ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা (এটিএস)। তদন্তে উঠে আসে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নাম। সেখান থেকেই উঠে আসে প্রজ্ঞা ঠাকুর এবং প্রাক্তন সেনা আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদশ্রীকান্ত পুরোহিতের নাম। তাঁদের গ্রেফতার করা হলেও দু’জনেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং পরে জামিন পান।
২০১১ সালে তদন্তভার যায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-এর হাতে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এনআইএ আদালতে একাধিক চার্জশিট জমা দেয়। ২০১৮ সালে শুরু হয় বিচারপর্ব, যেখানে সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিচার চলাকালীন প্রায় ৩২৩ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণ করে আদালত।
বৃহস্পতিবার রায়ে বিচারক একে লাহোটি স্পষ্ট করে বলেন, “মালেগাঁও বিস্ফোরণ একটি ভয়াবহ ও নিন্দনীয় ঘটনা। কিন্তু শুধুমাত্র নৈতিক বা আবেগতাড়িত হয়ে বিচার করা যায় না। আইনের ভিত্তিতে প্রমাণ থাকতে হবে।” আদালত জানায়, যেই মোটরসাইকেলে বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেটি যে প্রজ্ঞা ঠাকুরেরই ছিল, তার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, তিনি ওই ঘটনার দু’বছর আগেই সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন।
এছাড়াও, ইউএপিএ (বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন) এবং অস্ত্র আইনের ধারায় যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোও আদালত খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, ইউএপিএ এই মামলায় প্রযোজ্য নয়।
রায়ে মুক্তি পাওয়ার পর সাধ্বী প্রজ্ঞা আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এক মিথ্যা অভিযোগে। তার পর ভয়াবহ অত্যাচার করা হয়। আমার জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। আজ আমি বেঁচে আছি কেবল একজন সন্ন্যাসী হিসেবে। যারা এই ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা গেরুয়া এবং হিন্দুত্বকে অপমান করতে চেয়েছিল। কিন্তু আজ গেরুয়ার জয় হল, হিন্দুত্বের জয় হল।”
২০১৯ সালে ভোপাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাধ্বী প্রজ্ঞা। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী করেনি বিজেপি। আদালতের এই রায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
এই রায়ের পরে মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার অধ্যায় হয়তো শেষ, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল—কে দায়ী সেই বিস্ফোরণের জন্য? উত্তর মেলেনি এখনও।
সুনামির আতঙ্কে থমকে নেই লিভারপুলের জাপান সফর, মারিয়ানোসের বিরুদ্ধে জয়ের আনন্দ