মারাদোনার স্মৃতিতে আবেগঘন মেসি!
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি আবেগঘন বার্তা দিলেন অধিনায়ক লিয়োনেল মেসি। তিনি জানালেন, এই ঐতিহাসিক জয় তিনি উৎসর্গ করছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনাকে।
ম্যাচ শেষে মেসির কণ্ঠে ছিল আবেগের ছোঁয়া। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, দিয়েগো উপরে বসে হাসছেন। এই দিনটা তাঁর কাছেও বিশেষ। আমরা তাঁকে এই আনন্দ উপহার দিতে পেরে গর্বিত। এই জয় তাঁরই জন্য।”
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বরাবরই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন লড়াই। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে মারাদোনার অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স এখনও সমর্থকদের স্মৃতিতে অমলিন। সেই ইতিহাসেরই যেন নতুন অধ্যায় লিখলেন মেসি। কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে ঘুরিয়ে এনে ফাইনালে তুলে আবারও প্রমাণ করলেন, বড় ম্যাচে তিনি কতটা নির্ভরযোগ্য।
চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নানা বিতর্কও পিছু ছাড়েনি দলটির। কখনও রেফারিং, কখনও ভিএআর সিদ্ধান্ত— বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মেসিদের। কিন্তু অধিনায়কের মতে, মাঠের ফলই সব প্রশ্নের সেরা উত্তর।
মেসি বলেন, “আমরা জানতাম, এই ম্যাচে হেরে গেলে অনেকেই নানা কথা বলত। তাই শুধু জেতাই নয়, নিজেদের সামর্থ্যও প্রমাণ করা ছিল লক্ষ্য। আমরা সেটা করতে পেরেছি। এখন কী বলা হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের ভাবার প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও জানান, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয় শুধু একটি সেমিফাইনাল জেতা নয়, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য বিশেষ এক আবেগের মুহূর্ত। দুই দেশের দীর্ঘ ফুটবল ইতিহাস এবং অতীতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই ম্যাচকে সব সময়ই অন্য মাত্রা দেয়। তাই এই জয় দেশের মানুষের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
মেসির কথায়, “এটা শুধুই আর পাঁচটা ম্যাচের মতো ছিল না। আমাদের সমর্থকেরা এই জয়টাই সবচেয়ে বেশি চেয়েছিল। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা জানি, গোটা দেশ এখন উদ্যাপনে মেতে উঠেছে।”
ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে আর্জেন্টিনা প্রত্যাবর্তন করেছে, তা নিয়েও গর্বিত অধিনায়ক। তাঁর মতে, দল শুরু থেকেই বিশ্বাস করেছিল যে তারা ম্যাচে ফিরতে পারবে। সেই আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিয়েছে।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে বিশ্বকাপের শেষ লড়াই। আর মাত্র একটি জয় দূরে আরেকটি বিশ্ব শিরোপা। মারাদোনার স্মৃতিকে সঙ্গী করে মেসির দল কি ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে পারবে? সেই উত্তর মিলবে ফাইনালের মঞ্চেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?