মানুষের রক্তেই কেন টান মশার? জঙ্গল কমতেই বদলে গেল তাদের স্বাদ, জানাল গবেষণা

জঙ্গল কমতেই বদলে গেল তাদের স্বাদ, জানাল গবেষণা! খোলা আকাশের নীচে একটু শান্তিতে বসার কথা ভাবলেই যেন কোথা থেকে উড়ে আসে মশা! কুট করে কামড়, তার পর রক্তশোষণ— রেহাই নেই।…

January 22, 2026
1 min read

জঙ্গল কমতেই বদলে গেল তাদের স্বাদ, জানাল গবেষণা!

খোলা আকাশের নীচে একটু শান্তিতে বসার কথা ভাবলেই যেন কোথা থেকে উড়ে আসে মশা! কুট করে কামড়, তার পর রক্তশোষণ— রেহাই নেই। এত প্রতিরোধ, এত ব্যবস্থা সত্ত্বেও প্রশ্ন থেকেই যায়, মশারা মানুষের রক্তের দিকেই বা এত ঝুঁকছে কেন? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় মিলেছে তার চমকপ্রদ উত্তর। বিজ্ঞানীদের মতে, এর পিছনে দায়ী মানুষেরই তৈরি করা পরিবেশগত পরিবর্তন।

ব্রাজ়িলের বিস্তীর্ণ আটলান্টিক অরণ্যকে কেন্দ্র করে এই গবেষণা চালিয়েছেন ব্রাজ়িলের ফেডেরাল বিশ্ববিদ্যালয় ও অলওয়াল্ডো ক্রুজ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনা পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এই অরণ্য একসময় ছিল জীববৈচিত্রে ভরপুর। কিন্তু মানুষের বসতি, চাষাবাদ ও নগরায়ণের চাপে আজ তার মাত্র ৩০ শতাংশ টিকে রয়েছে। সেই বদলে যাওয়া পরিবেশেই বদলে যাচ্ছে মশাদের অভ্যাস।

গবেষণায় মোট ১,৭১৪টি মশার উপর পরীক্ষা চালানো হয়, যা ছিল ৫২টি প্রজাতির। এর মধ্যে ১৪৫টি ছিল স্ত্রী মশা— যাদের রক্ত শোষণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ওই ১৪৫টির মধ্যে ২৪টির পেটে থাকা রক্ত পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, তারা কাদের কামড়েছিল। ফলাফল রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো— ২৪টির মধ্যে ১৮টির পেটেই পাওয়া গিয়েছে মানুষের রক্ত। বাকিগুলিতে মিলেছে ইঁদুর, পাখি, উভচর প্রাণী বা কুকুরজাতীয় প্রাণীর রক্ত।

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, একসময় মশারা নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করত। জঙ্গলে প্রাণীর সংখ্যা ছিল বেশি, বিকল্পও ছিল প্রচুর। কিন্তু জঙ্গল কাটা, প্রাণী বিলুপ্তি এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সেই সুযোগ কমে এসেছে। খাবারের উৎস ফুরিয়ে আসতেই মশারা বাধ্য হয়েছে মানুষের উপর নির্ভর করতে। মানুষ এখন তাদের কাছে সবচেয়ে সহজলভ্য ও ‘প্রচুর’ উৎস— গবেষণার ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে ‘প্রিভ্যালেন্ট হোস্ট’।

এই পরিবর্তনের আরেকটি ভয়ংকর দিকও তুলে ধরছেন গবেষকেরা। মানুষের রক্তে মশার নির্ভরতা বাড়লে মশাবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়। কোনও সংক্রমিত মানুষকে কামড়ানোর পর সেই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে সহজেই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। ফলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া বা জ়িকার মতো রোগের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন ইকোলজি অ্যান্ড ইভলিউশন’ পত্রিকায়। গবেষক সার্জিয়ো মাচাদোর কথায়, “মশাদের স্বাভাবিক খাবারের উৎসে টান পড়েছে। টিকে থাকার জন্য তারা বিকল্প বেছে নিয়েছে। মানুষের কাছাকাছি যেতেই হয়েছে তাদের।”

বিজ্ঞানীদের মতে, এই গবেষণা ভবিষ্যতে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কোথায়, কী ভাবে মশারা মানুষের দিকে ঝুঁকছে— তা বুঝে প্রতিরোধের কৌশলও আরও কার্যকর করা সম্ভব। তবে শেষ কথা একটাই— প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব যে কত দূর পর্যন্ত ছড়াতে পারে, মশার এই বদলে যাওয়া ‘রুচি’ তারই আরেকটি জোরালো প্রমাণ।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *