মাধ্যমিকে প্রথম অভিরূপ, লক্ষ্য আইআইটি!
২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতেই রাজ্যের নজর কেড়েছে উত্তর দিনাজপুরের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। ৭০০-র মধ্যে ৬৯৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম হয়েছে সে। রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দির স্কুলের এই ছাত্রের সাফল্যে খুশির হাওয়া পরিবার থেকে স্কুল— সর্বত্রই।
অভিরূপের কথায়, এই সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে নিয়ম মেনে পড়াশোনা আর ধারাবাহিক অনুশীলনের। কোনও শর্টকাট নয়, প্রতিদিন সময় ভাগ করে পড়াই ছিল তার মূল মন্ত্র। মাধ্যমিকের প্রস্তুতির সময় ন’জন গৃহশিক্ষকের সাহায্য নিয়েছিল সে। তবে শুধুমাত্র টিউশন নয়, নিজের পরিশ্রমই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করে অভিরূপ।
তার পরিবার ছোট। মা ইন্দ্রাণী চৌধুরী ভদ্র রায়গঞ্জ হাসপাতালের স্টাফ নার্স। ভাইবোন নেই। একাই ছেলেকে বড় করেছেন তিনি। কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনার প্রতি সবসময় নজর রেখেছেন। অভিরূপও জানে, মায়ের ত্যাগ ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হত না।
মাধ্যমিকে প্রথম হলেও এখনই থেমে থাকতে রাজি নয় সে। ভবিষ্যতে আইআইটি-তে পড়ে সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে অভিরূপ। তাই খুব শীঘ্রই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবে। তার মতে, উচ্চ মাধ্যমিকের দু’বছরই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে চলেছে।
অভিরূপ জানায়, মাধ্যমিকের সময় যতটা পরিশ্রম করেছে, আগামী দিনে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। কারণ আইআইটি-তে সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করতেই তার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ।
সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। সেই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়েছিল অভিরূপকে। তবে সে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না। তার কথায়, “এখনও পর্যন্ত রাজনীতি নিয়ে বলার মতো অভিজ্ঞতা হয়নি। আমি আপাতত পড়াশোনাতেই মন দিতে চাই।”
অল্প বয়সেই অভিরূপের এই সংযত মনোভাব এবং স্পষ্ট লক্ষ্য অনেককেই মুগ্ধ করেছে। পড়াশোনাকে কেন্দ্র করেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চায় সে। সাফল্যের ঝলকানির মাঝেও তাই তার চোখ এখন আগামী দিনের বড় স্বপ্নের দিকে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা