‘মাঝপথে অনুষ্ঠান থামিয়ে বলা হল—আপনি চলে যান’: বনগাঁয় গিয়ে হেনস্থার অভিযোগ মিমি চক্রবর্তীর

বনগাঁয় গিয়ে হেনস্থার অভিযোগ মিমি চক্রবর্তীর! কলকাতার বাইরে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। বনগাঁয় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে…

January 27, 2026
1 min read

বনগাঁয় গিয়ে হেনস্থার অভিযোগ মিমি চক্রবর্তীর!

কলকাতার বাইরে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। বনগাঁয় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ—দু’টিই প্রকাশ করেছেন তিনি। আনন্দবাজার ডট কম-কে মিমি সাফ জানিয়েছেন, “আমার সঙ্গে এ রকম ঘটনা এই প্রথম। এতটা ঔদ্ধত্য আগে কখনও দেখিনি।”

ঘটনাটি ঘটে রবিবার। বনগাঁয় একটি মঞ্চানুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন মিমি। তাঁর কথায়, অনুষ্ঠান তখন সবে শুরু হয়েছে। দর্শকদের সামনে পারফর্ম করতে শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা এক ব্যক্তি উঠে এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। অভিনেত্রীর দাবি, ওই ব্যক্তি—তনয় শাস্ত্রী—তাঁকে সরাসরি বলেন, “আপনি চলে যান।”

হঠাৎ এমন কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি মিমি। তিনি জানান, “আমি এতটাই হকচকিয়ে গিয়েছিলাম যে, প্রথমে বুঝতেই পারিনি কথাটা আমাকে বলা হচ্ছে।” বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর অপমান ও বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যান অভিনেত্রী। তাঁর দিকে তাকিয়ে একই কথা ফের বলা হলে আর পরিস্থিতি ঘোরানোর চেষ্টা না করে দর্শকদের শুভরাত্রি জানিয়ে মঞ্চ ছেড়ে দেন তিনি।

এর পরেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন মিমি। স্থানীয় থানার আইসির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং অভিযোগ দায়ের করেন। মিমির কথায়, “প্রশাসন সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। আশা করছি খুব শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।” পুলিশ সূত্রে খবর, ই-মেলের মাধ্যমেও বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

নিজের রাজ্যেই শিল্পীদের এ ভাবে হেনস্থার শিকার হতে হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিমি। তিনি মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। “আজ আমি এই পরিস্থিতির শিকার হলাম। কাল অন্য কোনও মহিলা শিল্পীর সঙ্গেও এমনটা হতে পারে,” বলেন অভিনেত্রী। তাই সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি—কার সঙ্গে, কোথায় অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজের আগের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মিমি বলেন, “আগে অনুষ্ঠান করতে গেলে সঙ্গে থাকত শুধু গাড়ির চালক। অনেক সময় দেহরক্ষীও থাকতেন না। সম্মান দিয়ে নিয়ে যাওয়া হত, সম্মান দিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হত।” কিন্তু এখন পরিস্থিতি যে বদলেছে, তা স্বীকার করতেই হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

এই ঘটনার পরে মিমির উপলব্ধি আরও তীব্র। তাঁর কথায়, “আগেও দেখেছি, অন্যদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। তখন মনে হয়েছিল, আমার সঙ্গে হবে না। সেই ভুল ভেঙে গেল।” শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও নারীদের প্রতি সম্মান—দুটোই আজ প্রশ্নের মুখে বলে আক্ষেপ করেছেন তিনি।

চুপ করে থাকার পক্ষপাতী নন মিমি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বেন। তাঁর কথায়, “চুপ থাকলে যাঁরা এ রকম আচরণ করেন, তাঁরা ভাববেন এটাই স্বাভাবিক।” পাশাপাশি, এই ঘটনায় মানহানির নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তাঁর আইনজীবী—এ কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *