বিতর্কের পর ক্ষমা চাইলেন বিজেপি সাংসদ!
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার সময় মহিলারা লড়াই করলে হতাহতের সংখ্যা কম হত—এই বক্তব্য দিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রামচন্দ্র জাংরা। বক্তব্যের রেশ না কাটতেই রবিবার একটি ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন তিনি। জানালেন, কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগলে তিনি দুঃখিত, তবে তাঁর মন্তব্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন।
শনিবার চণ্ডীগড়ে মরাঠা শাসক অহল্যাবাঈ হোলকারের ৩০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রামচন্দ্র বলেন, “পহেলগাঁওয়ে মহিলাদের লড়াই করা উচিত ছিল। আমি বিশ্বাস করি, তাঁরা যদি প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন, তাহলে হতাহতের সংখ্যা কম হতে পারত। আমাদের দেশের মেয়েদের মধ্যে ঝাঁসির রানি বা অহল্যাবাঈয়ের মতো সাহসিকতা আবার জাগিয়ে তুলতে হবে।”
এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি সহ একাধিক বিরোধী দল রামচন্দ্রকে নারী বিদ্বেষী বলে তোপ দাগে। এমনকি এনডিএ-র মধ্যেও অস্বস্তির সুর শোনা যায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর স্পষ্ট বলেন, “এই বক্তব্য বিজেপির অবস্থান নয়। এমন মন্তব্য করা ঠিক হয়নি।”
বিতর্কের মধ্যেই রবিবার ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন জাংরা। তিনি বলেন, “আমার দেশের মহিলারা দুর্বল নন। আমি তাঁদের অসম্মান করতে চাইনি। যারা স্বামীকে হারিয়েছেন, আমরা তাঁদের পাশে আছি। যদি আমার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে সেটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের উৎসাহিত করা। আমি দেশের বীরাঙ্গনাদের শ্রদ্ধা করি এবং চাই, তাঁদের মতো সাহস সবার মধ্যে ফিরে আসুক। যারা আমার কথাকে অন্যভাবে তুলে ধরছেন, ঈশ্বর তাঁদের সদবুদ্ধি দিন।”
এদিকে জানা গেছে, বিতর্ক নিয়ন্ত্রণে আনতেই রবিবার এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতাদের সাবধান করেছেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে ‘বেফাঁস’ মন্তব্য করা চলবে না। এর আগেও মধ্যপ্রদেশের এক বিজেপি মন্ত্রী সেনা আধিকারিককে ‘সন্ত্রাসবাদীদের বোন’ বলায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
‘দেশি অস্ত্রেই জয়ের গল্প’ — ‘মন কি বাত’-এ মোদীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য তুলে ধরা