মহাকুম্ভে ‘সবচেয়ে সুন্দরী সাধ্বী!
প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে সন্ন্যাসিনীর বেশে হাজির হয়ে রাতারাতি ভাইরাল হয়েছিলেন হর্ষা রিচারিয়া। নেটপ্রভাবী থেকে সাধ্বীর রূপ— তাঁর এই রূপান্তর নিয়ে তৈরি হয়েছিল কৌতূহল, প্রশংসা আর বিতর্ক— তিনই। কিন্তু বছর ঘুরতেই সেই আধ্যাত্মিক পথ ছাড়ার কথা জানালেন হর্ষা নিজেই। নেপথ্যে কারণ একটাই— লাগাতার কটাক্ষ, চরিত্রহনন আর মানসিক চাপ।
উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা হর্ষা আগে পরিচিত ছিলেন ‘অ্যাঙ্কর হর্ষা’ নামে। সঞ্চালনা, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত পোস্ট, বিদেশভ্রমণ— ঝলমলে জীবনই ছিল তাঁর পরিচয়। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার ১০ লক্ষেরও বেশি। ২০২৪ সালে ব্যাঙ্কক ও মায়ানমারে ডেস্টিনেশন বিবাহের আয়োজনও করেছিলেন তিনি। সেই হর্ষাই তিন বছর আগে দীক্ষা নিয়ে সন্ন্যাসিনীর জীবন বেছে নেন এবং নিজেকে সমাজকর্মী ও সনাতনী ভাবধারার অনুগামী বলে পরিচয় দেন।
মহাকুম্ভে হর্ষাকে দেখা গিয়েছিল সম্পূর্ণ আলাদা রূপে— গেরুয়া পোশাক, কপালে তিলক, গলায় ফুলের মালা, রথে চেপে আগমন। তখনই তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় ‘সবচেয়ে সুন্দরী সাধ্বী’ তকমা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “সব পেয়েও শান্তি পাইনি। তাই ভক্তি আর প্রার্থনার পথে নিজেকে সঁপে দিয়েছি।”
কিন্তু সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয় বিতর্ক। একদল নেটাগরিক প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তাঁকে। আবার অন্য একাংশ তাঁর পুরনো ছবি-ভিডিও তুলে ধরে অভিযোগ করেন— সবটাই নাকি খ্যাতির জন্য ‘লোকদেখানো’ নাটক।
হর্ষার দাবি, মহাকুম্ভের পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে তিনি লাগাতার ট্রোলিং, চরিত্রহনন এবং ঘৃণাভাষণের শিকার। এমনকি তাঁর নামে ডিপফেক ভিডিও ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই অবিরাম আক্রমণ তাঁকে মানসিক ভাবে ভেঙে দিয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন পোস্টে হর্ষা লেখেন, “মানুষের পক্ষে একজন মেয়ের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা কত সহজ! আমি কোনও অপরাধী নই। শুধু আধ্যাত্মিক পথ বেছে নিয়েছিলাম বলেই কেন এত অপমান?” তিনি আরও লেখেন, “আমি সীতা নই যে বারবার অগ্নিপরীক্ষা দেব। যথেষ্ট হয়েছে।”
হর্ষা জানিয়েছেন, মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক সমস্যাও তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। মৌনী অমাবস্যার পর তিনি আবার নিজের আগের পেশায় ফিরে যাবেন বলেই ঘোষণা করেছেন। তাঁর কথায়, “বিরোধিতা আর ঋণের চাপে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। আমি আমার নিজের পথেই হাঁটব।”
হর্ষার এই ঘোষণায় অনুরাগীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার তাঁকে আগের পরিচয়ে ফিরে পেয়ে খুশি। তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটতে গিয়েও কি একজন নারীকে সমাজের কাঠগড়ায় বারবার দাঁড়াতেই হবে?
লড়াইয়ের মাঝেও হাসি— হাসপাতালে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’, পাশে দাঁড়াতে ছুটে গেলেন দেব