মনমোহনের মৃত্যুর কারণে বেলগাভির অধিবেশন!
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের মৃত্যুতে শোকাহত কংগ্রেস। তাঁর মৃত্যুর কারণে কর্নাটকের বেলগাভিতে কংগ্রেসের বর্ধিত ওয়ার্কিং কমিটির অধিবেশন এবং ‘জয় সংবিধান জনসভা’ বাতিল করার ঘোষণা করেছে দল। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) মনমোহন সিংহের মৃত্যু সংবাদ শুনে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তড়িঘড়ি দিল্লির এমস হাসপাতালে পৌঁছান। এর ফলে, গতকাল থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা বেলগাভির অধিবেশনটি বাতিল করা হয়।
বেলগাভিতে কংগ্রেসের বর্ধিত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতি ও শুক্রবার। কংগ্রেস নেতারা অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য সেখানে পৌঁছতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই শোকসভার মুহূর্তে, কংগ্রেসের তরফ থেকে অধিবেশনটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “প্রয়াত মনমোহন সিংহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরা অধিবেশন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
বেলগাভির কংগ্রেস অধিবেশন ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। ১০০ বছর আগে, ১৯২৪ সালের ডিসেম্বরে মহাত্মা গান্ধীর সভাপতিত্বে বেলগাভিতে কংগ্রেসের একটি ঐতিহাসিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই অধিবেশনটি ছিল কংগ্রেসের ইতিহাসে এক বিশেষ মুহূর্ত, কারণ এটি ছিল একমাত্র গাঁধীজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশন। তার পর, কংগ্রেসের নেতা মল্লিকার্জুন খড্গে ও রাহুল গান্ধীরা লোকসভা ভোটে পরাজয় এবং পরে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলের পুনর্গঠন এবং ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজতে এই বেলগাভিকেই বেছে নিয়েছিলেন।
এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে, কংগ্রেস নেতারা রাজস্থানের উদয়পুরে ‘চিন্তন শিবির’ আয়োজন করেছিলেন, যেখানে দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রণকৌশল এবং লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। সেই চিন্তন শিবিরেও কংগ্রেসের প্রায় ২০০ জন নেতা যোগ দিয়েছিলেন। এরপর, কংগ্রেস নেতারা ঘোষণা করেছিলেন, দলীয় সমঝোতার পথে এগিয়ে যেতে হবে এবং বিজেপির মেরুকরণ রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
এবারের বেলগাভি অধিবেশনের উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং কংগ্রেসের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা। কিন্তু মনমোহন সিংহের মৃত্যুতে, এই আলোচনা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কংগ্রেস। এর পাশাপাশি, কংগ্রেসের পরিকল্পনা ছিল ‘জয় বাপু, জয় ভীম, জয় সংবিধান’ জনসভা আয়োজনের, যা সংবিধানের প্রণেতা ড. বি আর অম্বেডকরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘অবমাননাকর মন্তব্য’ প্রসঙ্গে আওয়াজ তুলতে উদ্দেশ্য ছিল। তবে, শোকের আবহে এই জনসভাও বাতিল করা হয়েছে।
মনমোহন সিংহের মৃত্যু কংগ্রেসের জন্য একটি বড় শোক। তিনি ছিলেন ভারতের অন্যতম শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতির বিশাল অনুরাগী। তাঁর নেতৃত্বে ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা দেশকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেস তার এই শ্রদ্ধেয় নেতাকে স্মরণ করতে এবং শোক জানাতে এই অধিবেশন এবং জনসভা বাতিল করেছে।
মনমোহন সিংহের মৃত্যু কেবল কংগ্রেস দলের জন্য নয়, বরং গোটা ভারতের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তাঁর নেতৃত্ব, দৃঢ়তা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দীর্ঘদিন ভারতীয় রাজনীতিতে অমর থাকবে।