মঙ্গলের বুকে রহস্যের নতুন দরজা!
লাল গ্রহ মঙ্গল গ্রহ-কে ঘিরে মানুষের কৌতূহল বহু দিনের। পৃথিবীর এত কাছের এই গ্রহে কোনও দিন প্রাণ ছিল কি না—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত বিজ্ঞানীরা। আর সেই অনুসন্ধানেই মিলল এক চমকপ্রদ সূত্র, যা নতুন করে ভাবাচ্ছে গবেষকদের।
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের একটি প্রাচীন জলপথে বিপুল পরিমাণে নিকেল ধাতুর সন্ধান পেয়েছেন। ধাতুটি আগে কখনও মঙ্গলে পাওয়া যায়নি—তা নয়। কিন্তু এবার যেভাবে, যে জায়গায় এবং যে পরিমাণে এটি মিলেছে, সেটাই পুরো বিষয়টিকে করেছে ব্যতিক্রমী।
এই আবিষ্কার হয়েছে মঙ্গলের নেরেতভা উপত্যকায়, যা এক সময় সক্রিয় জলপ্রবাহের পথ ছিল এবং জেজ়েরো ক্রেটার অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। বহু কোটি বছর আগে এখানে জল বইত—এমন প্রমাণ আগেই মিলেছিল। কিন্তু এবার সেই প্রাচীন জলপথেই নিকেলের উচ্চ ঘনত্বের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে পারসিভারেন্স রোভার-এর গবেষণার মাধ্যমে। ২০২৪ সালে রোভারটি ওই অঞ্চলে এক ধরনের অস্বাভাবিক শিলাস্তর খুঁজে পায়, যার নাম দেওয়া হয়েছে “ব্রাইট অ্যাঞ্জেল”। দীর্ঘ পরীক্ষার পর দেখা যায়, এই শিলার ভিতরেই রয়েছে নিকেলের অস্বাভাবিক মাত্রা।
বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণত নিকেল গ্রহের গভীরে থাকে। গ্রহ তৈরির সময় এই ধাতু অধিকাংশই কেন্দ্রে চলে যায়। ফলে পৃষ্ঠে এত বেশি নিকেলের উপস্থিতি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এর আগে মঙ্গলে যে নিকেল পাওয়া গিয়েছিল, তার বেশিরভাগই উল্কাপিণ্ড থেকে এসেছে বলে মনে করা হত। কিন্তু এবার প্রথমবার মঙ্গলের নিজস্ব মাটিতেই এর উপস্থিতির শক্ত প্রমাণ মিলল।
আর এখানেই বাড়ছে উত্তেজনা। কারণ, এই শিলাস্তরে শুধু নিকেল নয়, পাওয়া গিয়েছে লৌহ-সালফাইড (পাইরাইট)-এর মতো খনিজও। পৃথিবীতে এই ধরনের খনিজ সাধারণত এমন পরিবেশে তৈরি হয়, যেখানে অণুজীবের উপস্থিতি থাকে। অর্থাৎ, এই আবিষ্কার মঙ্গলে এক সময় অণুজীবের অস্তিত্ব ছিল—এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে।
গবেষকদের মতে, নেরেতভা উপত্যকার শিলায় জলপ্রবাহের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। জল বয়ে যাওয়ার ফলে সেখানে নানা রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটেছে, যা নিকেলের বিস্তারে সাহায্য করতে পারে। এমনও অনুমান করা হচ্ছে, কোনও উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে নিকেল সেখানে এসে পরে জলের সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
পৃথিবীতে জীবনের জন্য নিকেল একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌল। অনেক অণুজীবের বেঁচে থাকার জন্য এটি অপরিহার্য। তাই মঙ্গলের মাটিতে এই ধাতুর উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের কাছে বড় ইঙ্গিত—হয়তো এক সময় সেখানে ক্ষুদ্র জীবনের অস্তিত্ব ছিল।
তবে বিজ্ঞানীরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছেন না। তাঁদের মতে, আরও বিশদ গবেষণা প্রয়োজন। মঙ্গলের এই নতুন আবিষ্কার যেন এক নতুন দরজা খুলে দিয়েছে—যার ভিতরে লুকিয়ে থাকতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর: আমরা কি এই মহাবিশ্বে একা?
সম্ভবত, সেই উত্তর খুঁজতে আমাদের যাত্রা এখনই আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠল।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না